বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির একটি মাইলফলক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ।
গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের প্রসার
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা বর্তমানে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শহরাঞ্চলে এই হার ৯৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন এবং মোবাইল ডেটার দাম কমার কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
ডিজিটাল সেবার প্রভাব
ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে ডিজিটাল সেবা যেমন ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে পৌঁছেছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রামীণ এলাকায় গতিশীল ইন্টারনেটের গতি এবং স্থিতিশীলতা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, "গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ সম্প্রসারণে আমরা কাজ করছি। ২০২৫ সালের মধ্যে সব ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।" সরকার এরই মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।



