ব্যাকবেঞ্চার সোহেলের অমাবস্যার রাতে শ্মশানে অ্যাডভেঞ্চার ও রহস্যময় এআই
ব্যাকবেঞ্চার সোহেলের শ্মশানে অ্যাডভেঞ্চার ও রহস্যময় এআই

ব্যাকবেঞ্চার সোহেল জীবনে একবারও সামনের বেঞ্চে বসেনি। পড়ালেখায় তার কোনো আগ্রহ ছিল না, তবে দুষ্টুমি ও অ্যাডভেঞ্চারে তার জুড়ি মেলা ভার। সে একবার বাজি ধরে সাঁতরে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে ৫০০ টাকা জিতেছিল, যদিও বাড়িতে জানাজানি হওয়ায় বাবার হাতে মার খেয়ে জ্বরে পড়েছিল।

অমাবস্যার রাতে শ্মশানে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ

ক্লাস নাইন থেকে টেনে ওঠার পর সোহেলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। সে বন্ধুদের ওপেন চ্যালেঞ্জ দেয়—কে অমাবস্যার রাতে মড়াখলায় (শ্মশান) রাত কাটাতে পারবে? বন্ধুরা ইতস্তত করে। মারুফ বলে রাতে বাইরে বের হওয়া যায় না, রুবেল বাড়ি থেকে অনুমতি না পাওয়ার কথা বলে। পুলকের মা নিষ্ঠাবতী বিধবা হওয়ায় তার ঘুম থেকে বের হওয়া অসম্ভব। সোহেল তাদের তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেয়।

সোহেলের নির্ভুল পরিকল্পনা ও বন্ধুদের উদ্বেগ

সোহেল বিছানায় কোলবালিশ মুড়ে, ডিমলাইট জ্বালিয়ে, ফ্যান চালিয়ে রেখে পা টিপে বের হয়। দোতলার টেরাস থেকে লাফিয়ে নামে। বন্ধুরা তাকে টর্চলাইট, কেডস, বুড়াপীরের পানি পড়া ও টাকাপয়সা নিয়ে যেতে বলে। পুলক তার মায়ের কাছ থেকে অমাবস্যার তারিখ জেনে দেয় এবং সোহেলের নিরাপত্তার জন্য বড় কালীবাড়ি মন্দিরে ১০ টাকা দান করে। মারুফ চার ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং রুবেল বুড়াপীরের পানি এনে দেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্মশানে পৌঁছে রহস্যময় এআই-এর সাক্ষাৎ

সোহেল শ্মশানকালী মন্দিরের বারান্দায় পৌঁছে। সেখানে একটি কুকুর কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে। সে সাবধানে পা টিপে এগিয়ে যায়। প্রমাণ হিসেবে বন্ধুদের কাছ থেকে আনা বলপয়েন্ট কলম, ইরেজার ও দুই টাকার কয়েন একটি রুমালে বেঁধে নির্দিষ্ট সমাধিস্তম্ভে রাখার পরিকল্পনা করে। কিন্তু সমাধির ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকারের পরিবর্তে আবছা আলো দেখতে পায়। রবীন্দ্রনাথের আদলে দাড়িওয়ালা এক লোক ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোহেল জিজ্ঞেস করে, ‘আসসালামু আলাইকুম, আপনে কেডা?’ বুড়ো বলে, ‘আমি একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম। তুমি কে?’ সোহেল জানায় তার নাম ও উদ্দেশ্য। বুড়ো জানায় সে এখানে গবেষণা করছে এবং সোহেলের মাথায় ঢুকে সরাসরি বুঝিয়ে দিতে পারে। সোহেল ভয় না পেয়ে রাজি হয়।

এআই-এর মাধ্যমে শিক্ষায় বিপ্লব

বুড়ো সোহেলের মাথায় হাত রাখে। সোহেল মাথার ভেতর সামান্য আলোড়ন অনুভব করে। বুড়ো তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে—কী খেতে ভালোবাসে, প্রিয় খেলোয়াড় কে ইত্যাদি। সোহেল রবীন্দ্রনাথের কবিতা বলতে না পারলেও কোক স্টুডিওর ‘রাশি রাশি ভারা ভারা’ লাইন বলে। বুড়ো ‘ভেরি গুড’ বলে প্রশংসা করে। এরপর সোহেল জ্ঞান হারায়।

সকালে বন্ধুরা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পায় এবং মন্দিরের সেবায়েতের সাহায্যে জ্ঞান ফেরায়।

সোহেলের রূপান্তর ও সাফল্য

সেদিনের পর থেকে সোহেল প্রতিদিন ফার্স্ট বেঞ্চে বসে ক্লাস করে। স্কুল পালানো বাদে সব দুষ্টুমি জারি রাখলেও পরীক্ষার আগে পড়ার টেবিল থেকে উঠতে দেখা যায় না। তার মা খুশিতে তিন শ রাকাত শোকরানা নামাজ পড়ে। সোহেল কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রতিদিন রেলব্রিজের এলাকা পার হওয়ার সময় সে শ্মশানকালী মন্দিরের দিকে তাকায়, কিন্তু সেই রাতের ঘটনা কাউকে বলেনি।

সোহেল এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে—এ কথা নিশ্চিত। তবে সে নিজের ব্যাকবেঞ্চার দিনগুলো মাঝেমধ্যে মিস করে। ফেক রবীন্দ্রনাথ তার কী সর্বনাশটাই না করেছে!