এআই-এর পরামর্শে মাকে হত্যা: ব্রিটিশ কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এআই-এর পরামর্শে মাকে হত্যা: ব্রিটিশ কিশোরের যাবজ্জীবন

এআই-এর পরামর্শে মাকে হত্যা: ব্রিটিশ কিশোরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্ল্যাটফর্মের পরামর্শ নিয়ে নিজের মাকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ট্রিস্টান রবার্ট নামে এক ব্রিটিশ কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট গত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। সাজা অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী রবার্টকে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে কাটাতে হবে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘ পরিকল্পনা

গত বছরের ২৩ অক্টোবর ৪৫ বছর বয়সী মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে ৪ পাউন্ড ওজনের স্লেজহ্যামার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে রবার্ট। মামলার শুনানি থেকে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কয়েক সপ্তাহের দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল এবং অভিযুক্ত কিশোর পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার একটি অডিও রেকর্ড করে রেখেছিল। অনলাইনে নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক পোস্ট এবং নিজের জীবনের সব সমস্যার জন্য মাকে দায়ী করার মানসিকতা থেকেই সে এই পথ বেছে নেয়।

এআই সার্চ ইঞ্জিনের ভূমিকা

আদালতের তথ্যমতে, রবার্ট ‘ডিপসিক’ নামক একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের কাছে হত্যার পদ্ধতি ও অস্ত্র নিয়ে পরামর্শ চেয়েছিল। শুরুতে সার্চ ইঞ্জিনটি নেতিবাচক উত্তর দিলেও রবার্ট যখন দাবি করে যে সে ধারাবাহিক খুনিদের নিয়ে বই লিখছে, তখন এআই তাকে কিছু কৌশল বাতলে দেয়। সে এআই-এর কাছে রক্ত পরিষ্কারের উপায় এবং হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি ভালো—এমন প্রশ্নও করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, এআই তাকে অনভিজ্ঞ খুনিদের জন্য হাতুড়ি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধার দিকগুলো বুঝিয়ে বলেছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, হত্যার অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকেই রবার্ট প্রস্তুতি শুরু করে। সে অনলাইনে স্লেজহ্যামার, কুঠার ধার করার পাথর এবং প্লাস্টিক শিট কেনে। ঘটনার রাতে সে প্রথমে বাড়িতে মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং পরে চিকিৎসার নাম করে তাকে বাইরে নিয়ে যায়। একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। অডিও রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তাকে মেরে ফেলেছি... কাজ শেষ।’ এরপর মরদেহটি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রেখে সে বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহটি উদ্ধার করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পটভূমি

শুনানিতে নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট এবং বোন সারা গুন্থার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। জানা যায়, নিহত অ্যাঞ্জেলা শেলিস তার অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য সবসময় সহায়তার চেষ্টা করতেন। এমনকি হত্যার কয়েকদিন আগে রবার্টের কেনা অস্ত্র দেখে তিনি শঙ্কিত হয়ে নিজের ফোনে নোটও লিখেছিলেন, যেখানে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—তার ছেলে কি তাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়? শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই করুণ বাস্তবতায় রূপ নিল। এই ঘটনা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছে।