পেন্টাগনের চাপে নতি স্বীকার করবে না অ্যানথ্রোপিক, অনিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারে অস্বীকৃতি
অ্যানথ্রোপিক পেন্টাগনের অনিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের চাপে নতি স্বীকার করবে না

পেন্টাগনের অনিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের চাপে নতি স্বীকার করবে না অ্যানথ্রোপিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা অ্যানথ্রোপিক পেন্টাগনের অনিয়ন্ত্রিত সামরিক ব্যবহারের চাপে নতি স্বীকার করবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে। সংস্থাটির এই অবস্থান সামরিক প্রযুক্তি ও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নাগরিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ভয়

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যানথ্রোপিক পেন্টাগনকে তাদের প্রযুক্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নাগরিকদের ওপর নজরদারি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য ঝুঁকি। সংস্থাটি মনে করে, এই ধরনের ব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নিরাপত্তা হুমকির কারণ হতে পারে।

সিইও দারিও আমোদেইর স্পষ্ট বক্তব্য

অ্যানথ্রোপিকের অন্যতম কর্ণধার এবং প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের ওপর নজরদারি করা অগণতান্ত্রিক কাজ।" একইসঙ্গে তিনি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অস্ত্র ব্যবহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আমোদেই আরও যোগ করেন, "আমরা জেনেশুনে আমাদের প্রযুক্তি এমন কাজে ব্যবহার করতে দিতে পারি না যাতে মার্কিন সেনা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে।" তার এই বক্তব্য সংস্থাটির নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণে অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।

পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি ও বর্তমান অবস্থা

সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য ২০২৫ সালে পেন্টাগন অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই, গুগল এবং ইলন মাস্কের গ্রক চ্যাটবক্সের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করে। তবে অ্যানথ্রোপিকের বর্তমান সিদ্ধান্ত এই চুক্তির প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংস্থাটির এই অবস্থান প্রযুক্তি শিল্পে নৈতিকতা ও সামরিক সহযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি অন্যান্য এআই কোম্পানিগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, যারা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করার সময় নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিবেচনা করছে।

অ্যানথ্রোপিকের সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি দেখাচ্ছে যে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারি চাপের মুখেও তাদের নৈতিক সীমানা রক্ষা করতে প্রস্তুত।