দিল্লিতে শুরু হচ্ছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬, প্রধানমন্ত্রী মোদি করবেন উদ্বোধন
দিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট শুরু, মোদি উদ্বোধন করবেন

দিল্লিতে শুরু হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬। দেশটির স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সামিটটি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির ভারত মণ্ডপমে চলবে, যা প্রযুক্তি জগতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও বিশাল আয়োজন

এই এআই সামিটে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ডসহ মোট ১৩টি দেশের প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। চারদিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রায় পাঁচশটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিন হাজার ২৫০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করবেন। ডিজিটাল দুনিয়ায় ভারতীয় ও বিদেশি প্রায় সব উল্লেখযোগ্য সংস্থার প্রধানরা এখানে উপস্থিত থাকবেন, যা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অংশগ্রহণ

এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার ভারতে আসছেন এই সামিটে যোগ দিতে। মুম্বাইতে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং পরবর্তীতে এআই শীর্ষবৈঠকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তার উপস্থিতি এই সম্মেলনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ও প্রত্যাশা

এআই সামিটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে বলেছেন, 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এই সামিটের ফলে এআই-এর ব্যবহার, সহযোগিতা, দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হবে, যা ভবিষ্যতকে আরও উন্নত ও টেকসই করে গড়ে তুলবে।' তার এই বক্তব্য সামিটের উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

এই সামিটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রভাব, নীতিমালা, এবং উদ্ভাবনী দিকগুলো নিয়ে আলোচনার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের জন্য এআই প্রযুক্তির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।