এআই ব্যবহারে অসতর্কতা: এক মাসে ৫০ কোটি ডলার বিল!
এআই ব্যবহারে অসতর্কতা: এক মাসে ৫০ কোটি ডলার বিল

কর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্ম কতটুকু ব্যবহার করতে পারবেন, তার নির্দিষ্ট কোনও সীমা বেঁধে দিতে ভুলে গিয়েছিল একটি কোম্পানি। আর এই ছোট্ট এক অসতর্কতার মাসুল হিসেবে মাত্র এক মাসেই অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তাদের বিল এসেছে ৫০ কোটি ডলার।

ঘটনার বিবরণ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন এআই পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, এটি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না; বরং তার এক মক্কেল ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ না করায় তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালনার ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ব্যর্থতার এই ঘটনাটি ঘটেছে। কোনও নির্দেশিকা ছাড়াই কোম্পানিগুলোর অন্ধভাবে এআই ব্যবহারের হিড়িকের মধ্যেই এমন ঘটনা সামনে এলো।

টোকেন ভিত্তিক খরচ

মূলত এই ধরনের এআই প্ল্যাটফর্মগুলো টোকেন হিসেবে কাজ করে। যেখানে প্রতিটি অনুরোধের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ হয়। কোনও বিধিনিষেধ না থাকলে এই টোকেনের খরচ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবাধ ব্যবহারের ফল

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কোম্পানিটি তাদের কর্মীদের ক্লদ প্ল্যাটফর্মে অবাধ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। সেখানে ব্যয়ের কোনও সর্বোচ্চ সীমা, ব্যবহারের নির্দিষ্ট গণ্ডি কিংবা রিয়েল-টাইমে কে কীভাবে এটি ব্যবহার করছে তা দেখার মতো কোনও ড্যাশবোর্ডও ছিল না। অবাধ স্বাধীনতা পাওয়ায় কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ডেটা প্রয়োজন হয় এমন কাজে এআই-কে ব্যবহার করা শুরু করেন।

তারা এমন কিছু এআই কোডিং এজেন্ট এবং এজেন্টিক পাইপলাইন তৈরি করেন, যা মানুষের কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজে নিজেই একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। দীর্ঘ সময়ের এই কাজের প্রক্রিয়াগুলো যেমন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তেমনি এর সঙ্গে যখন ‘লং-কনটেক্সট প্রম্পট’ যুক্ত হয়, তখন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়।

একাধিক কর্মী এই ধরনের প্রম্পট ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করায় কোম্পানির খরচ দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই লাগামহীন খরচ থামানোর মতো কোনও ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই এআই টোকেনের পেছনে খরচ করা এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্য ভার্জের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাইক্রোসফট তাদের কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ক্লদ কোড লাইসেন্স বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, কারণ সেখানে একেকজন প্রকৌশলী মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করছিলেন।

অন্যদিকে উবার এপ্রিলের মধ্যেই তাদের ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ এআই বাজেট শেষ করে ফেলেছে, যার ফলে এর চিফ অপারেটিং অফিসার মন্তব্য করেছেন যে, এআই-এর এই বিপুল খরচের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিপরীত চিত্র

এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। অনেক কোম্পানি আবার কর্মীদের যতটা সম্ভব বেশি এআই ব্যবহার করতে বাধ্য করছে এবং তাদের ব্যবহারের ওপর নজর রাখছে। যেমন, অ্যামাজন কিরোর্যাঙ্ক নামের একটি এআই লিডারবোর্ড চালু করেছিল।