রিভার ফিশের নারী কর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনেরা সম্মান জানালেন
প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, অনলাইনে মাছ বিক্রির প্রতিষ্ঠান রিভার ফিশের নারী কর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।
নারী কর্মীদের প্রতি সম্মান ও উপহার বিতরণ
অনুষ্ঠানে রিভার ফিশের সাত নারী কর্মী—ফারজানা রহমান, রেনু বেগম, রোকেয়া বেগম, হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতার—এর হাতে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়। এই নারীরা মাছ কাটার কাজে নিয়োজিত থেকে তাদের পরিবারের অভাব মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের প্রভাব
১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো অনলাইনে 'মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই রিভার ফিশের নারী কর্মীদের প্রতি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাদের সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ গৃহীত হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনের উপস্থিতি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বর্তমানে এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আবদুল্লাহ এইচ কাফি নারী কর্মীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।'
অনুষ্ঠানে অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি নারী কর্মীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতিক্রিয়া
রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাদের সততা ও পরিশ্রমই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নারী কর্মীদের অনুভূতি
উপহার পেয়ে রেনু বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, 'আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য আনন্দের।'
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথি
উপহার হাতে তুলে দেওয়ার সময় তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তিনি এবং অন্যান্য অতিথিরা ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের মতো নারীদের সংগ্রামে শামিল হতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগটি সমাজে তথাকথিত 'ছোট কাজ'-এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
