ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার (এফডিই) পেশাটি অনেকের কাছে এখনও কম পরিচিত হলেও চাকরির বাজারে দ্রুত সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পেশায় পরিণত হচ্ছে। চাহিদা ও দক্ষতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতনও তাই আকাশছোঁয়া—বছরে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার কী করেন?
এই পেশার ধারণাটি প্রথম জনপ্রিয় করে প্যালান্টির টেকনোলজিস। এফডিই ইঞ্জিনিয়াররা সাধারণত কোম্পানির অফিসে বসে কাজ করেন না, বরং ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বা তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো:
- এআই প্ল্যাটফর্ম বাস্তব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা
- কাস্টম সফটওয়্যার ও টুল তৈরি করা
- কাজের প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করা
- ক্লায়েন্টের সমস্যার ভিত্তিতে দ্রুত প্রযুক্তিগত সমাধান দেওয়া
অর্থাৎ তারা একই সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার, কনসালট্যান্ট এবং প্রোডাক্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে মিশ্র ভূমিকা পালন করেন।
চাকরির বাজারে নাটকীয় বৃদ্ধি
চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এক বছরে ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার পদের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এই পদের বিজ্ঞাপন ছিল ৬৪৩টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩০টিতে—অর্থাৎ প্রায় ৭২৯ শতাংশ বছরওয়ারি বৃদ্ধি। এটি টেক ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম দ্রুততম প্রবৃদ্ধি। গুগল, ওপেনএআই, এন্থ্রোপিক ও স্ট্রাইপের মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এই পদে নিয়োগ দিচ্ছে।
বেতন কেন এত বেশি?
এই পদের বেতন বছরে সাধারণত ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলার বা প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর কারণ হলো, এই কাজের জন্য খুব বিরল দক্ষতার প্রয়োজন হয়—একদিকে শক্তিশালী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, অন্যদিকে ব্যবসা বোঝার ক্ষমতা ও যোগাযোগ দক্ষতা।
এআই যুগে নতুন চাকরি
এআই নিয়ে সাধারণত চাকরি হারানোর ভয় থাকলেও ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ারদের উত্থান ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এআই বাস্তবায়নের জন্য এখন এমন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, যাঁরা প্রযুক্তিকে বাস্তব ব্যবসার সমস্যায় কাজে লাগাতে পারেন। ফলে এআই শুধু চাকরি কমাচ্ছে না—বরং নতুন উচ্চমূল্যের চাকরিও তৈরি করছে। এভাবে ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার আজকের টেক দুনিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর একটিতে পরিণত হচ্ছে।



