ব্রিটিশ নারী অ্যামি ডাইসনের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড: টুম্ব রেইডার গেমের ২৯১টি ইউনিক কপি সংগ্রহ
অ্যামি ডাইসনের গিনেস রেকর্ড: টুম্ব রেইডার গেমের ২৯১ কপি সংগ্রহ

ব্রিটিশ নারী অ্যামি ডাইসনের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদ হাতে পেয়েছেন ব্রিটিশ নারী অ্যামি ডাইসন। তাঁর এই অসাধারণ কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভিডিও গেমের প্রতি ভালোবাসা এবং একাগ্র সংগ্রহশীলতা। ডাইসন টুম্ব রেইডার ভিডিও গেমের মোট ২৯১টি ইউনিক কপি সংগ্রহ করে এই রেকর্ড গড়েছেন, যা আগের রেকর্ডধারীর সংগ্রহকে ছাড়িয়ে গেছে।

ছোটবেলা থেকেই টুম্ব রেইডারের প্রতি অনুরাগ

অ্যামি ডাইসনের ভিডিও গেমের প্রতি ভালোবাসা শুরু হয়েছিল শৈশব থেকেই। তিনি নিয়মিত ভিডিও গেম খেলতেন, যার মধ্যে টুম্ব রেইডার ছিল তাঁর সবচেয়ে পছন্দের গেম। অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার এই গেমের মূল চরিত্র লারা ক্রফট, একজন দুঃসাহসী ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক, যিনি বিশ্বজুড়ে রহস্যময় স্থান অনুসন্ধান করে মূল্যবান প্রত্নবস্তু উদ্ধার করেন। ডাইসনের মতে, এই গেমটি তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি বলে মনে হতো, কারণ এটি ধাঁধা সমাধান এবং ভিন্নধর্মী গেমপ্লে উপহার দিত।

বিশাল সংগ্রহশালা গড়ে তোলা

যখনই টুম্ব রেইডার সিরিজের নতুন কোনো গেম বাজারে এসেছে, ডাইসন তা কিনে নিয়েছেন। এভাবে ধীরে ধীরে তাঁর সংগ্রহ বড় হতে শুরু করে। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • গেমের স্পেশাল এডিশন সংস্করণ
  • বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একই গেমের নানা সংস্করণ
  • বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত একই গেমের আলাদা আলাদা কপি

এই সমস্ত ইউনিক কপি মিলিয়ে মোট ২৯১টি আইটেম সংগ্রহ করে ডাইসন স্পেনের আলেহান্দ্রো কাম্ব্রোনেরো আলবালাদেহোর পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ২০১৭ সালে আলবালাদেহোর সংগ্রহে টুম্ব রেইডার গেমের ২১৫টি ইউনিক কপি ছিল, যা ডাইসনের সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় গেমের ভূমিকা

ডাইসন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, টুম্ব রেইডার গেম শুধু তাঁর শখই নয়, বরং এটি তাঁর ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে। এই অসুস্থতার ফলে তিনি কাজে মনোযোগ দিতে পারতেন না, মাথা ঘোরানো, কাঁপুনি এবং শরীরে অসাড়তা অনুভব করতেন। ডাইসন বলেন, ‘যখন আমি অসুস্থ বোধ করি, কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে টুম্ব রেইডার খেলতে শুরু করি। এটি আমার মস্তিষ্ক সক্রিয় হতে সাহায্য করে।’ এই গেমটি তাঁর জন্য একটি থেরাপিউটিক টুল হিসেবে কাজ করেছে, যা তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

টুম্ব রেইডারের ইতিহাস ও প্রভাব

১৯৯৬ সালে প্রথম টুম্ব রেইডার ভিডিও গেম বাজারে আসে এবং দ্রুতই এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গেমটি শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, বরং অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎসও হয়ে উঠেছে। ডাইসনের মতো সংগ্রাহকরা এই গেমের বিভিন্ন সংস্করণ সংগ্রহ করে এর সাংস্কৃতিক মূল্যকে সমৃদ্ধ করছেন। তাঁর এই রেকর্ড শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়, বরং ভিডিও গেম সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন।