রাজধানীতে 'সিরিয়াল রেপিস্ট' গ্রেফতার: মেয়ে সেজে ফেসবুকে বন্ধুত্ব, তারপর ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল
রাজধানীতে এক 'সিরিয়াল রেপিস্ট'কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) মেয়ে সেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে নারীদের টার্গেট করতেন। এরপর তাদের যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিতেন।
গ্রেফতার ও তদন্তের বিস্তারিত
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, রাশেদুল অত্যন্ত সুকৌশলে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নারী সাজতেন। মূলত মিরপুর এলাকার মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন তিনি। একপর্যায়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে দেখা করার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ ও বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন।
অপরাধের নৃশংস পদ্ধতি
দনিয়া এলাকায় রাশেদুলের দুটি নির্দিষ্ট বাসা বা 'ডেন' ছিল। দিনের বেলা হলে তিনি ভিকটিমদের এক বাসায় নিতেন এবং রাতে হলে অন্য বাসায় নিয়ে যেতেন। সেখানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, 'অভিযুক্ত রাশেদুল প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দক্ষ। সে ভিকটিমদের ফোন কেড়ে নিত এবং ভিডিও ডিলিট করার কথা বলে বারবার টাকা দাবি করত। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে প্রায় সবার সঙ্গেই যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।'
তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাশেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫ জন ভিকটিমের ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে নেমে আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পায় পুলিশ। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, রাশেদুল এতটাই চতুর যে, তিনি তার বর্তমান স্ত্রীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক।
পুলিশের সতর্কতা ও অনুরোধ
পুলিশের আশঙ্কা, রাশেদুলের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এই আসামির মাধ্যমে অন্য কেউ যদি এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, রাশেদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। তার এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আরও ভিকটিম চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অপরাধের নতুন একটি ধারা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা নারীদের সচেতনতা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।



