এআই ছবি ও ভুয়া পোস্টে বিভ্রান্তি: সায়েদুল হক সুমনের জামিন ও রুমিন ফারহানার দল পরিবর্তনের দাবি মিথ্যা
এআই ছবি ও ভুয়া পোস্টে বিভ্রান্তি: সুমন-রুমিনের খবর মিথ্যা

এআই ছবি ও ভুয়া পোস্টে বিভ্রান্তি: সায়েদুল হক সুমনের জামিন ও রুমিন ফারহানার দল পরিবর্তনের দাবি মিথ্যা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন পাওয়ার দাবি করে একটি এআই ছবি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার তথ্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সায়েদুল হক সুমনের জামিনের দাবি: এআই ছবি ও ভুয়া তথ্য

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়েছে, যেখানে কারাগারে ফুলের মালা গলায় দেওয়া অবস্থায় সায়েদুল হক সুমনকে দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন এমপি। জয় বাংলা’

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছবিতে থাকা দুটি ব্যানারে বানানে বিভ্রাট রয়েছে, যা সাধারণত এআই দিয়ে বানানো ছবিতে দেখা যায়। এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করলে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ১০০% বলে ধরা পড়ে।

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সায়েদুল হক সুমন জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। যুবলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক এই নেতার গ্রেপ্তারের খবর জাতীয় সব সংবাদমাধ্যমে এসেছিল। কিন্তু তাঁর জামিন কিংবা মুক্তির কোনো খবর এখন পর্যন্ত কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি। তাঁর ফেসবুক পেজেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রুমিন ফারহানার আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর: মিথ্যা দাবি

ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ঘুরছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ব্রেকিং নিউজ সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’ আলোচিত পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখানে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজের পোস্টকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রিউমর স্ক্যানার তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দেখিয়েছে, বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, ‘অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান’ নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজটি তাঁর নয়। অন্যদিকে রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ, গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ ধরনের তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং তাঁর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার তথ্যটি ঠিক নয়।

রুমিন ফারহানা একসময় বিএনপিতে যুক্ত ছিলেন, দলটি থেকে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যও ছিলেন। তবে এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগেই তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শহীদ মিনারে এআই দিয়ে সম্পাদিত নারীর ছবি: ভুয়া তথ্যের আরেক উদাহরণ

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে, যাতে দেখা যায় এক নারী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যোগব্যায়ামের আসনে বসে আছেন। এই ছবি দেখে অনেকে সমালোচনা করছেন এবং শহীদ মিনারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

অনুসন্ধান চালিয়ে Yuj নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি পাওয়া যায়। ইলা ওয়ারেছা নামের এই নারী পেশায় ‘ইয়োগা ইনস্ট্রাক্টর’। তিনি তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে ছবিটির ক্ষেত্রে ‘এআই হ্যাশট্যাগ’ ব্যবহার করেছেন। পরবর্তী সময়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলস দিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ছবিটি এআই-নির্ভর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।