প্রধানমন্ত্রী পরিবারের আদলে এআই ভিডিও দিয়ে ফেসবুকে স্ক্যাম শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ
প্রধানমন্ত্রী পরিবারের আদলে এআই ভিডিও স্ক্যাম শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী পরিবারের আদলে এআই ভিডিও দিয়ে ফেসবুকে স্ক্যাম শনাক্ত

ফ্যাক্টওয়াচের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের সদৃশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিডিও ব্যবহার করে ফেসবুকে একটি বড় ধরনের স্ক্যাম অপারেশন শনাক্ত করা হয়েছে। 'গরিবের-সহায়তা কেন্দ্র' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই ভুয়া ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে দেড় লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

স্ক্যামের বিস্তারিত পদ্ধতি

ভিডিওগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, পেজটি ফলো করলে ব্যবহারকারীদের ৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই লোভনীয় অফারে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই কমেন্টবক্সে নিজেদের বিকাশ নম্বর শেয়ার করছেন, যা তাদের আর্থিক তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই ভিডিওগুলো সম্পূর্ণরূপে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ও কন্যার সাথে এগুলোর কোনো প্রকৃত সম্পর্ক নেই।

ফ্যাক্টওয়াচের ভূমিকা ও সতর্কতা

ফ্যাক্টওয়াচ পেজটি পর্যালোচনা করে এটিকে মানুষকে বোকা বানানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি এই ভিডিওযুক্ত পোস্টগুলোকে বিকৃত তথ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া কন্টেন্ট ছড়ানো প্রতিরোধে কাজ করছে। সম্প্রতি ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এআই ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যা সাইবার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ফ্যাক্টওয়াচ নিয়মিতভাবে এমন অপপ্রচার যাচাই করে সত্য তথ্য তুলে ধরছে এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, অনলাইনে কোনো অফার বা ভিডিও দেখলে সতর্কতার সাথে যাচাই করা উচিত, বিশেষ করে যখন তা টাকা বা পুরস্কারের লোভ দেখায়। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বকে আরও জোরালো করে তুলেছে।