বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও আইনজীবীর হোয়াটসঅ্যাপ ক্লোন করে প্রতারণা, টাকা দাবি
বগুড়ায় বিএনপি নেতার হোয়াটসঅ্যাপ ক্লোন করে প্রতারণা

বগুড়ায় বিএনপি নেতা ও আইনজীবীর হোয়াটসঅ্যাপ ক্লোন করে প্রতারণার ঘটনা

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার এবং জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল বাছেদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ক্লোন করে একটি প্রতারক চক্রের কার্যক্রম সামনে এসেছে। শনিবার এই ঘটনা ধরা পড়ার পর উভয় নেতা পুলিশকে অবহিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন।

আইনজীবী আবদুল বাছেদের বক্তব্য

পিপি আবদুল বাছেদ সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়ে উল্লেখ করেছেন, 'আমার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কেউ টাকাপয়সা চাইলে দেবেন না।' তিনি প্রথম আলোকে জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, বগুড়া আদালতের বিভিন্ন বিচারক, আইনজীবী, দলীয় নেতা, সাংবাদিকসহ নানা পেশাজীবীর কাছে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিকাশে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। বাছেদ বলেন, 'এটি প্রতারক চক্রের কাজ। বিভিন্নজন ফোন করে জানানোর পর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।'

সংসদ সদস্য মহিত তালুকদারের প্রতিক্রিয়া

আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ক্লোন করে আজ বিকেল পাঁচটা থেকে আমার পরিচিত অন্তত ১০০ জনের কাছে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র।' তিনি আরও যোগ করেন, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য বিভিন্নজনের কাছে মোবাইল নম্বরও টেক্সট করা হয়েছে। তালুকদার বলেন, 'প্রতারণা বুঝতে পেরে অনেকেই বিষয়টি আমাকে জানান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা

এই ঘটনাটি বগুড়া জেলায় সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আবদুল বাছেদ বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উভয় নেতার দ্রুত পদক্ষেপে প্রতারক চক্রের সম্ভাব্য ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এই ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।