নির্বাচনের আগে এআই ভিডিওর বিস্তার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন উদ্বেগ
নির্বাচনের আগে এআই ভিডিও বিস্তারে উদ্বেগ

নির্বাচনের আগে এআই ভিডিওর বিস্তার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন উদ্বেগ

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক ভিডিওর ব্যাপক বিস্তার নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে ফেসবুকজুড়ে শত শত এআই-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ডিজিটাল যুগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এআই ভিডিওগুলোর প্রকৃতি ও নির্মাণমান

এই ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে বাস্তবের মতো দেখতে কিন্তু সম্পূর্ণ কল্পিত সংবাদ উপস্থাপক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্মিত ‘সাধারণ নাগরিক’, এমনকি পুলিশের মতো পোশাক পরা ব্যক্তিরাও। ভিডিওগুলোর নির্মাণমান এতটাই নিখুঁত ও উচ্চমানের যে প্রথম দেখায় সেগুলোকে সত্যিকারের খবর বা সাক্ষাৎকার বলেই সহজেই ভুল বোঝানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, একটি ভিডিওতে নীল রঙের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তিকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে দেখা যায়, যিনি দেখতে কোনো সরকারি কর্মকর্তার মতোই। গুগলের নিজস্ব এআই শনাক্তকারী টুল ‘সিনথআইডি’ ব্যবহার করে এই ভিডিওটি যাচাই করা হয়েছে, যা প্রায় ৮০ লাখবার দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঝুঁকি ও নির্বাচনী প্রভাব

আরেকটি বহুল প্রচারিত ভিডিও, যেটি প্রায় দুই লাখবার দেখা হয়েছে, তাতে এক কৃত্রিম দোকানদারকে ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়, কেন তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। এই ধরনের এআই ভিডিও সাধারণ ভোটারের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলো স্পষ্টভাবে ‘সিনথেটিক’ বা কৃত্রিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। নির্বাচন বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই ধরনের কনটেন্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এগুলো জনমনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

নির্বাচনী আচরণবিধি ও নজরদারির চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া এআইজাত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে অনলাইনে এই বিধিনিষেধ কীভাবে নজরদারি করা হচ্ছে বা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, এআই প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে, ততোই তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এই সংকট মোকাবিলার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা ডিজিটাল যুগে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও তথ্যের সত্যতা রক্ষার গুরুত্বকে আরো উজ্জ্বল করে তুলেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।