২০৪৯ সালের ফেসবুক অ্যাডমিশন টেস্ট: পাস করলেই মিলবে ১০ বছরের অ্যাক্সেস
শুক্রবার, ২০৪৯ সাল। সব বয়স, পেশা ও সামাজিক স্তরের লাখ লাখ মানুষ পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের চোখে একটাই স্বপ্ন—ফেসবুক চালানো। ফেসবুক অ্যাডমিশন টেস্ট (FAT)-এ পাস করলেই মিলবে ফেসবুক কার্ড, যা দিয়ে ফেসবুক চালানো যাবে ১০ বছর। এর আগে কোনো পরীক্ষা বা কার্ড ছাড়াই যত খুশি অ্যাকাউন্ট খোলা যেত। সে সময়েই জন্ম হয়েছিল 'মাননীয় বট বাহিনী'র।
২০৪০-এর দুর্ভিক্ষ: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পতন
২০৪০-এর শেষ দিকে নতুন আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে FAT-এ পাস করতে হবে। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের পর বাংলার মানুষ দেখে ’৪০-এর দুর্ভিক্ষ। অসংখ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগার না খেয়ে মারা যান। ফলোয়ার ও মনিটাইজেশন হারিয়ে ভগ্নহৃদয়ে অর্ধমৃত হয়ে বেঁচে থাকেন গুটিকয়েক প্রাক্তন সেলিব্রিটি।
পরীক্ষার ধাপ ও মার্কস ডিস্ট্রিবিউশন
পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি: ১০০ নম্বরের মধ্যে পাস করতে হবে ৭০। চারটি অপশন থেকে সঠিক উত্তর বেছে নিতে হবে। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.৫০ নম্বর। উদাহরণ: 'পুলিশ ডেকে নিজের বিয়ে ঠেকাল কিশোরী। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়া কী হবে?' অথবা 'আপনার কোনো ধারণা নেই এমন বিষয়ে আপনি নিচের কোন কমেন্টটি করবেন? ক. এ জন্য এদের বিয়ে হয় না, খ. নোয়াখালী বিভাগ চাই, গ. মা*, ঘ. কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকবেন'।
লিখিত পরীক্ষা: ২৫০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষায় ৫০টি কমেন্ট রাইটিং থাকবে। যেমন: 'একজন অপরিচিত মানুষের ছবিতে করা যায় এমন ৫টি এবং করা যায় না এমন ৫টি কমেন্ট লিখুন' এবং 'রুমিন ফারহানার পোস্টে তিনটি গঠনমূলক কমেন্ট লিখুন'। বাকি ২০০ নম্বরের মধ্যে স্ট্যাটাস রাইটিং ১০০, মেসেজ রাইটিং ৫০ এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন ৫০ নম্বরের।
স্ট্যাটাস রাইটিং মডেল প্রশ্ন
- প্রশ্নে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া থাকবে। উদ্দীপকের স্ট্যাটাসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে একটি কাউন্টার স্ট্যাটাস লিখুন।
- স্ট্যাটাস দেওয়ার আগে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত, তা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস লিখুন।
- ধরুন সকাল থেকে আপনার মন খারাপ। কাউকে দোষ দিয়ে ১০০ শব্দের মধ্যে একটি স্ট্যাটাস লিখুন।
মেসেজ রাইটিং ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন
মেসেজ রাইটিং সেকশনে যাচাই করা হবে প্রার্থীর অপরের বাউন্ডারির প্রতি শ্রদ্ধা এবং রুচিশীলতা। যেমন: 'কোনো সুন্দরী মেয়েকে কফি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে একটি মেসেজ লিখুন'। বর্ণনামূলক প্রশ্নে জোর দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীর চিন্তা ও প্রাসঙ্গিকতা, বিষয়-সম্পর্কিত স্বচ্ছ ধারণা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা। যেমন: 'একটি ভাইরাল ফটোকার্ড সত্য নাকি মিথ্যা বোঝার উপায়গুলো ফ্লোচার্টসহ বর্ণনা করুন' এবং 'কারও পোশাক আপনার ভালো না লাগলে কী করবেন? আলোচনা করুন'।
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ও পুরস্কার
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় প্রতি পরীক্ষার্থীকে ১৫ দিনের জন্য একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দেওয়া হবে। তাদের প্রতিটি কমেন্ট, মেসেজ, ইমোজি—এমনকি কাকে স্টক করছেন—সব তথ্য ফেসবুক মনিটরিং সেলের কাছে থাকবে। এর ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে। প্রতিটি সেশনে সর্বোচ্চ নম্বরধারী হবেন 'ফেসবুকার অব দ্য ইয়ার'। ওই সেশনের সবাই তাকে 'স্যার' ডাকতে বাধ্য থাকবেন। তিনি উপহার হিসেবে পাবেন ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ২ লাখ ফলোয়ার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী পাবেন যথাক্রমে ১ লাখ ও ৫০ হাজার ফলোয়ার।
২০২৬ সালের বাস্তবতা
এখন ২০২৬ সাল। অ্যাভারেজ আইকিউয়ের বাংলাদেশিদের এ পরীক্ষায় পাস করতে অন্তত ১০-১২ বছর লেগে যাবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। হ্যাপি ফেসবুকিং!



