কর্ণফুলী পেপার মিলস: কাগজের বাজার হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন ঘাটতি ও সংকটের মুখে
কর্ণফুলী পেপার মিলস: উৎপাদন ঘাটতিতে বাজার হারাচ্ছে

কর্ণফুলী পেপার মিলস: উৎপাদন ঘাটতিতে বাজার হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) বর্তমানে উৎপাদন ঘাটতি ও নানা সংকটের মুখে পড়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী মিলটি কাগজের বিপুল বাজার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামাল সংকট, জনবল স্বল্পতা এবং পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে সম্ভাবনাময় বাজার কাজে লাগাতে পারছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বড় বাণিজ্যিক সুযোগ হারাচ্ছে এবং তার অস্তিত্ব সংকটের দিকে এগোচ্ছে।

উৎপাদন ক্ষমতা ও বাজার চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান

কর্ণফুলী পেপার মিলসের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন। তবে নানা সমস্যার কারণে বর্তমানে সেই সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, দেশের শিক্ষা খাতেই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাগজের চাহিদা রয়েছে। শুধুমাত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চাহিদাই প্রায় ৭০ হাজার টন। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ, বাজার নিশ্চিত করতে পারলে ক্রেতা নিশ্চিত, কিন্তু কেপিএম এই সুযোগ ধরতে পারছে না।

প্রধান সমস্যা: কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদন সীমাবদ্ধতা

কেপিএম-এর মহাব্যস্থাপক (উৎপাদন) মো. মইদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের প্রধান সমস্যা কাঁচামাল সরবরাহ। যথা সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ করা গেলে চাহিদা অনুযায়ী কাগজ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সারা বছর কাঁচামাল সরবরাহ না থাকায় সমানতালে উৎপাদন ধরে রাখা যায় না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাসের অর্ধেক সময়ের কম মিলে চালু থাকে, যা বড় অর্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূলত উৎপাদন সীমিত থাকায় বড় অর্ডার নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দ্রুত এক হাজার টন কাগজ সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি প্রশংসা কুড়ালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

জনবল সংকট ও পুরোনো যন্ত্রপাতির প্রভাব

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীন এই প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত জনবল দুই হাজারের বেশি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র কয়েকশ’ শ্রমিক। কাঁচামালসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে, যা বাজার দখলে আমদানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ মিল দেশের কাগজ শিল্পের প্রধান ভরসা ছিল এবং স্বাধীনতার আগে পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে কাগজের চাহিদা মিটাতো।

ভবিষ্যতের আশঙ্কা ও সম্ভাবনা

সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে ধীরে ধীরে বাজার দখল করে নিচ্ছে আমদানিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা, যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ এবং জনবল সংকট দূর করা গেলে কর্ণফুলী পেপার মিলস আবারও তার গৌরব ফিরে পেতে পারে এবং দেশের কাগজ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।