নরসিংদীতে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর সফর: জুট মিল পরিদর্শন ও ইজারা প্রক্রিয়া চলছে
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নরসিংদী জেলায় যাবেন। এই সফরে তিনি জেলার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জুট মিলস সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলে বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের সময়সূচি ও কর্মসূচি
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস পরিদর্শন করবেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। এরপর সকাল ১০টায় তিনি ঘোড়াশাল উপজেলার বাংলাদেশ জুট মিলস পরিদর্শনে যাবেন। এছাড়া ঘোড়াশাল প্রাণ কারখানা (এএমসিএল) পরিদর্শনেরও একটি কর্মসূচি তার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে জুট মিল দুটির বর্তমান সার্বিক অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।
ইজারার মাধ্যমে পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ
সফর প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, “জুট মিল দুটোর বর্তমান সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে এই সফর। পাটকল চালুর বিষয়ে নির্বাচনি প্রতিশ্রতি পূরণে আমরা ইজারার মাধ্যমে বন্ধ থাকা পাটকল পুনরায় চালু করতে চাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইতোমধ্যে কয়েকটি মিলের ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার বন্ধ পাটকলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
জুট মিলগুলোর বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৭৭ দশমিক ০২৫ একর, যার আংশিক জমি ইজারার মাধ্যমে শিল্পায়নের আওতায় এসেছে। এই মিলটির উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১৩,৯৬৮ মেট্রিক টন, যেখানে মূলত হেসিয়ান ও স্যাকিং পণ্য উৎপাদিত হয়। অপরদিকে, কো-অপারেটিভ জুট মিলস ইজারার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রম বর্তমানে চলছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে মিলগুলো পুনরায় চালু হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফরটি নরসিংদী অঞ্চলের পাট শিল্পের উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



