বড় উত্থানের পর শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন
গতকাল রোববারের বড় উত্থানের পর আজ সোমবার শেয়ারবাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৯০ পয়েন্টে। গতকাল এই সূচক ২০১ পয়েন্ট বা পৌনে ৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আজকের পতনের বিপরীতে একটি স্বাভাবিক বাজার প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা হ্রাস
সূচকের পতনের পাশাপাশি আজ ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি ৭ পয়েন্ট বেড়েছে, যদিও সেখানে লেনদেন কমে নেমে এসেছে ১৪ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি টাকা কম।
মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের শেয়ারের দামের উত্থানের পর আজ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। এ কারণে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় ব্যাংকসহ ভালো মৌলভিত্তির বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানির মধ্যে ২১৮টির দাম কমেছে, ১৫৩টির দাম বেড়েছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
কোম্পানিগুলোর ভূমিকা
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল গ্রামীণফোন, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের সম্মিলিত দরপতনে ডিএসইএক্স সূচকটি কমেছে ১৯ পয়েন্টের বেশি।
ভালো মৌলভিত্তির এসব কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে স্কয়ার ফার্মা, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এক্মি ল্যাবরেটরিজ, শাহজিবাজার পাওয়ার, সোনালী পেপার, ঢাকা ব্যাংক ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সের মূল্যবৃদ্ধি সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে প্রায় ২১ পয়েন্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বড় উত্থানের পরদিন বাজারের এই দরপতনের বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, “আগের দিনের বড় উত্থানের পর আজ শেয়ারের দামের কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। কারণ, অনেকে মুনাফা তুলে নিয়ে এক শেয়ার থেকে অন্য শেয়ারে বিনিয়োগ স্থানান্তর করেছেন। এটি বাজারের স্বাভাবিক আচরণ। বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও লেনদেন ছিল ইতিবাচক। বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। নতুন কিছু বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি পুরোনো নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। বাজারের জন্যও এটি ইতিবাচক।”
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রভাব
রোববার ডিএসইতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোম্পানি লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল। আর দাম কমেছিল জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্টদের মালিকানা থাকা কোম্পানির শেয়ারদর। আজকের বাজারে এই ধারার কিছুটা বদল হয়। বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন কোম্পানির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোম্পানিরও দর বেড়েছে।
আগের দিনের মতো আজও ঢাকার বাজারে লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা ব্যাংক। এদিন কোম্পানিটির প্রায় ৪১ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়। আর দাম কমেছে ৩০ পয়সা বা ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়। পাশাপাশি বেড়েছে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক, কেঅ্যান্ডকিউ ও দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দাম। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ, কেঅ্যান্ডকিউর দাম ৫ শতাংশ ও দুলামিয়া কটনের দাম বেড়েছে ৫০ পয়সা।
তার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ফার্মার শেয়ারের দাম এদিন ২ শতাংশ বা ৬ টাকা বেড়েছে। তবে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৩০ পয়সা কমেছে।
