কাতারের গোল উদযাপন। ম্যাচজুড়ে ২৭ শট, যার ১০টিই পোস্টে। কিন্তু এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও সুইজারল্যান্ড গোল পেল মাত্র একটি। ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতার মাশুল গুণে শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি সুইসরা। ১–১ গোলের এই ড্র ম্যাচটাই আবার কাতারের জন্য ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার খেলতে আসা দলটি টুর্নামেন্টে প্রথম পয়েন্টের দেখা পেল। সেটাও আবার সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তি–সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা দলকে রুখে দিয়ে!
এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে খেলে সবগুলো ম্যাচে হেরেছিল কাতার। গোল হজম করেছিল ৭টি—যেটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো স্বাগতিক দলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। সেই হতাশা ভুলে আজ উচ্ছ্বাসে ভেসেছে কাতার।
ম্যাচের বিবরণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যে একটি করে সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড ও কাতার, যদিও গোল পায়নি কেউই। এরপর ১৩ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর হেডে বল নিচে নামার পর সেটির দিকে ছুটে যান রেমো ফ্রয়েলার। বলের কাছে সবার আগে পৌঁছালেও কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা তাঁকে ফাউল করে বসেন। রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এমোবলো। এটি বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল। এগিয়ে গিয়ে প্রথমার্ধের বাকি সময়েও দুর্দান্ত দাপট দেখায় সুইজারল্যান্ড।
বিরতির পরও দাপট ছিল সুইজারল্যান্ডদের। তবে সুইসদের একের পর আক্রমণ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিতে থাকে কাতার। পাশাপাশি কাতার চেষ্টা করে প্রতি–আক্রমণে গিয়ে সুইজারল্যান্ডকে চমকে দেওয়ার। পুরো ম্যাচে অবশ্য ৬টির বেশি শট নিতে পারেনি কাতার।
ঐতিহাসিক গোল
সৌভাগ্যের শেষ হাসিটা কাতারের পক্ষেই হেসেছে। ম্যাচে যোগ করা সময়ের চার মিনিটে (৯৪) গোল করে কাতারকে সমতায় ফেরান বুয়ালেম খুখি। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেসে আসা দারুণ এক ক্রসকে হেডে গোলে রূপান্তর করে দলকে আনন্দে ভাসান কাতার অধিনায়ক।
এই গোলের পরপরই শুরু হয় কাতারি খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। এমন কিছু যেন তারা নিজেরাই বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, এ যেন জয়ের সমান ড্র! কী অসাধারণ এক মুহূর্ত! এই মহামূল্যবান গোলে ‘বি’ গ্রুপ থেকে ১ পয়েন্ট পেয়েছে কাতার।
এর আগে গতকাল রাতে এই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হয়েছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেই ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়। ‘বি’ গ্রুপে সবার পয়েন্ট ১।



