ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইএক্স ২০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি
নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইএক্স ২০০ পয়েন্ট বেড়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে দেখা গেলো বড় ধরনের উত্থান। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স একদিনে ২০০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। একই সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে ১২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মিলেছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৪৮৫ কোটি টাকা বেশি।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটায় বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন সাইডলাইনে থাকা অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘রিলিফ র‍্যালি’। প্রায় সব খাতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৩৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ারেও ছিল উল্লম্ফন। এমনকি ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারেও ক্রেতার চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সবগুলোর দাম বেড়েছে। বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ২৮২ কোটি টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা।

ব্যাংক ও বড় মূলধনী শেয়ারে ক্রেতার চাপ

লেনদেনের শুরু থেকেই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতার আধিক্য ছিল। সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারে— ৮০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে ঢাকা ব্যাংক (৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা) ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (৪১ কোটি ৮ লাখ টাকা)। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, রবি, সায়হাম কটন, যমুনা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ওরিয়ন ইনফিউশন।

অন্য সূচকেও উত্থান

ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট, আর ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৮৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৮৪ পয়েন্ট। সিএসইতে ২৪৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২০টির দাম বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।

প্রত্যাশার প্রতিফলন, তবে সতর্কবার্তা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে টেকসই ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতিতে স্বচ্ছতা, ডলারবাজারে স্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ। ডিএসই পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের সহিংসতা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে ভালো কোম্পানির আইপিও আনা ও বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুত সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন। নির্বাচন-পরবর্তী এই উত্থান স্পষ্ট করেছে— রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে পুঁজিবাজার কত দ্রুত সাড়া দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই উচ্ছ্বাস সাময়িক ‘প্রত্যাশার বারুদ’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সংস্কারভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি অগ্রযাত্রার ভিত্তি গড়ে তোলে।