মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস, তেলের দামে উল্লম্ফন
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস, তেলের দামে উল্লম্ফন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। সোমবার প্রধান সূচকগুলো তাদের রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

শেয়ারবাজারের অবস্থা

সোমবার ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৫৫৭ পয়েন্ট বা ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৪ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক ০.২ শতাংশ কমেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব

বাজারের এই অস্থিরতার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ব্যারেলপ্রতি ৫.৮ শতাংশ বেড়ে ১১৪.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে পার হয়েছে এবং এই চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ছয়টি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিনিয়োগকারীদের মনোভাব

এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন শেয়ারবাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও আশা আছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকট এড়াতে পারবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রবৃদ্ধিও বাজারকে সহায়তা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোম্পানির শেয়ারদরে তারতম্য

এদিকে টাইসন ফুডস বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাদের শেয়ার ৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইউরোপে ভ্রমণে গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের শেয়ার ৮.৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন লজিস্টিক সেবায় নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করায় ইউপিএস ১০.৫ শতাংশ এবং ফেডএক্স ৯.১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বন্ড ও আন্তর্জাতিক বাজার

এদিকে, ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়ে ৪.৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ব্যবসা ও গৃহঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে। এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের শেয়ার সূচক বাড়লেও ইউরোপীয় বাজারগুলোতে মন্দাভাব দেখা গেছে। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ১.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।