মোংলা বন্দরে রেকর্ড কনটেইনার পরিবহন: সাত মাসে ৭৯% বৃদ্ধি
মোংলা বন্দরে রেকর্ড কনটেইনার পরিবহন, ৭৯% বৃদ্ধি

মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে অভূতপূর্ব সাফল্য

চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম সাত মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার পরিবহন সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি উজ্জ্বল দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সময়ে মোট ৩১টি বিদেশি বাণিজ্যিক কনটেইনারবাহী জাহাজ বন্দরটি ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে ২১ হাজার ৬৫১ টিইইউস কনটেইনার লোড ও আনলোড করা সম্ভব হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

এই পরিমাণ গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর পুরো বছরের মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউসের চেয়েও বেশি, যা মাত্র সাত মাসেই অর্জিত হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা বন্দরটির কার্যক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন, ‘জুলাই-২০২৫ থেকে জানুয়ারি-২০২৬ পর্যন্ত এই সাত মাসে ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মোংলা বন্দরে এসেছে। এ সময়ে ছয় হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছে এবং মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮২ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন।’ এই কার্গো হ্যান্ডলিং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক তিন শতাংশ বেশি, যা বন্দরের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

নতুন রেকর্ড তৈরির পথে

উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেছেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের এখনও পাঁচ মাস বাকি থাকলেও আমরা ইতিমধ্যে গত বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।’

বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় তিনটি নতুন অপারেশনাল অ্যাঙ্কর বার্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই বার্থসমূহে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এখন থেকে ওই বার্থসমূহে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ মিটার ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজ অপারেশন করা সম্ভব হবে, যা বন্দরের ধারণক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমদানি-রপ্তানির পণ্য তালিকা

বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে নিম্নলিখিত পণ্যগুলো আমদানি ও রপ্তানি হচ্ছে:

  • আমদানি পণ্য: খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিংকার, সার, অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, বীজ এবং এলপিজি।
  • রপ্তানি পণ্য: সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড় এবং সাধারণ পণ্যসম্ভারসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য।

এই বহুমুখী পণ্য পরিবহন মোংলা বন্দরকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলছে।