স্বর্ণের দাম কমালো বাজুস, প্রতি ভরিতে কমল ২১৫৮ টাকা
স্বর্ণের দাম কমালো বাজুস, প্রতি ভরিতে কমল ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এই মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে দুই হাজার ১৫৮ টাকা।

নতুন দাম কার্যকর

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

অন্যান্য ক্যারেটের দাম

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায় বিক্রি হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী দাম বৃদ্ধি

এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানে আগের সেই বৃদ্ধির সমপরিমাণই কমানো হলো।

চলতি বছরে দাম সমন্বয়

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬১ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই

এদিকে, স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট পাঁচ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের চার হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা তিন হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুপার দাম সমন্বয়

রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছরে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ১৯ বার দাম বেড়েছে এবং ১৭ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং তিন বার হ্রাস পায়।

এখন স্বর্ণ কেনার সময়?

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে দামের এই পতন স্বর্ণ কেনার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যারা অলঙ্কার বা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের উদ্দেশে কিনতে চান। কারণ, স্বর্ণ ঐতিহ্যগতভাবে একটি ‘সেফ হ্যাভেন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

তবে, বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বর্তমান দরপতনকে স্থায়ী প্রবণতা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়, তাহলে দ্রুতই দাম বাড়তে পারে।

ঝুঁকি কোথায়?

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এখনও কাটেনি। ডলারের বিনিময় হার স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে। দেশীয় বাজারে ঘন ঘন সমন্বয় অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এ কারণে স্বল্পমেয়াদী লাভের আশায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।