অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। চুক্তিটি বাতিলের জন্য অনেকেই আহ্বান জানাচ্ছেন। এবার এই চুক্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, অন্যদেশের সঙ্গে তুলনা করলে মার্কিন চুক্তিটি ভালোভাবে বোঝা যাবে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণের পরামর্শ
খলিলুর রহমান বলেন, “মার্কিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো। যেকোনো চুক্তি নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত। আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টি শর্তে রাজি হয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পড়বেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ যারা চুক্তি করেছে তাদের চুক্তির পাশাপাশি পড়ুন। তাহলে জিনিসটা ভালো বুঝবেন।”
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের প্রসঙ্গ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি বলবো, আপনারা তুলনামূলক দেখুন আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি। এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ যেমন আমাদের ৩৯ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল, তো অন্যান্য সব দেশ নেগোশিয়েট করেছে। কেউ ২০ পেয়েছে, যেমন ভিয়েতনাম, আমরা ১৯ পেয়েছি। সবারই কিন্তু এই এগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের এগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়ুন। তাহলে বুঝবেন যে আমরা কী রেট পেয়েছি, পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেস কমিটমেন্ট কত? আমাদের কত? সব মিলিয়ে দেখুন।”
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “সেখানে এখনও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তারা যদি না জানান, তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না।”



