লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের মাজহারুল ইসলাম নাঈম এক মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ড্রাগন চাষে চমক সৃষ্টি করেছেন। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ অনাবাদি জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে, পাশাপাশি পেঁপে, পেয়ারা ও অন্যান্য ফল উৎপাদন হচ্ছে এবং অর্ধশতাধিক ছাগল পালন করছেন।
শুরুতে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ
প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন নাঈম। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ইউটিউব ও অনলাইন থেকে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। ধাপে ধাপে বাগানের পরিধি বাড়িয়ে বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকায়। চলতি মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, "ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।"
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, "তরুণ উদ্যোক্তা শিক্ষক নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে।"
বাজারজাতকরণ ও মূল্য
নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণের দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতো। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি হলেও চাহিদা ভালো। বাগানে নিয়মিত কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
নাঈম নিজে বলেন, "করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাঈমের সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি চান তার বাগান আরও সম্প্রসারিত করে একটি মডেল ফার্মে পরিণত করবেন, যেখান থেকে অন্য কৃষকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে উপকৃত হতে পারেন।



