নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরের বাইরে এক ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩২ মিনিটে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। তাকে বেলেভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়। তদন্ত চলছে।
নিহত ব্যক্তি তিব্বত সমর্থক বলে দাবি
ঘটনার তাৎক্ষণিক কোনো উদ্দেশ্য জানায়নি পুলিশ। তবে মার্কিন গণমাধ্যম ও তিব্বত সমর্থক সক্রিয়কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি তিব্বতের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন। তদন্তকারীরা এই দাবি নিশ্চিত করেনি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গায়াতশো এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “লোবগা ছিলেন তিব্বতের একজন নিরলস সমর্থক, যিনি তিব্বতে মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে গেছেন।”
চীনের নতুন আইনের বিরোধিতা
গায়াতশো জানান, রাংজেন চীনের নতুন ‘জাতিগত ঐক্য ও উন্নয়ন প্রচার আইন’-এর বিরোধিতা করতেন। বেইজিং বলছে, এই আইনটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ‘অভিন্ন’ জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণীত। কিন্তু বিদেশি সক্রিয়কর্মীদের মতে, এটি উইঘুর ও তিব্বতিদের মতো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অধিকার আরও ক্ষুণ্ণ করবে। বেইজিং এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত।
জাতিসংঘ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা এই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনায় শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিব্বতের প্রেক্ষাপট
১৯৫০ সালে বেইজিং তিব্বতে সেনা পাঠায়, যা চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। তিব্বতের ৯০ বছর বয়সী আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ১৯৫৯ সালে চীনা সেনাবাহিনী তিব্বতের রাজধানী লাসায় একটি বিদ্রোহ দমন করার পর ভারতের ধর্মশালায় আশ্রয় নেন। দালাই লামার দীর্ঘদিনের ‘মিডল ওয়ে’ নীতি স্বায়ত্তশাসন এবং ‘অহিংসা, সংলাপ ও পারস্পরিক সুবিধার মাধ্যমে সিনো-তিব্বত দ্বন্দ্বের সমাধান’ চায়।



