টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত মা হাতির মৃত্যু
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত মা হাতির মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত এক মা হাতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রবিবার (১১ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

দুর্ঘটনার বিবরণ

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা আড়াইটা নাগাদ টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় ২০-২৫ বছর বয়সী মা হাতিটি। পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়, যার ফলে তার পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটের কিছু অংশ কেটে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘শনিবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দের পর হাতির চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি একটি মা হাতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পেট থেকে রক্ত ঝরছিল, যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছিল। দুটি পা ভেঙে গেছে বলেও মনে হচ্ছিল। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো গেলো না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল পৌনে ১০টায় হাতিটি মারা যায়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাতিটির বৈশিষ্ট্য ও এলাকার হাতি

হাতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট ও উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার সময় বৃষ্টির কারণে নরম মাটি ধসে হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। চিকিৎসক দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

ভারী বর্ষণের প্রভাব

বন বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।