সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বোয়ালা হাওড়ের ব্যাপক ফসল তলিয়ে গেছে। শনিবার (২ মে) সকালে বাঁধ ভেঙে পড়লে হাওড়ে পানি প্রবেশ করে। এতে করে কৃষকরা ধান কাটা ও বাঁধ রক্ষার মধ্যে দ্বিধায় পড়েছেন।
বাঁধ ভাঙনের ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে যায়। মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্টের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া বাঁধ ভেঙে পানি হাওড়ে প্রবেশ করতে থাকে। সকালে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকরা এই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে শুক্রবার (১ মে) একই উপজেলার শালদিঘা হাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছিল। দিনভর চেষ্টা করে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ আটকানো সম্ভব হয়। তবে বোয়ালা হাওড়ের বাঁধ ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তা ঠেকাতে ব্যর্থ হন।
কৃষকদের অভিযোগ
স্থানীয় কৃষকরা বাঁধ ভাঙনের জন্য পাউবো ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কর্মীদের দোষারোপ করছেন। তাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে অবহেলা করা হয়েছে। কালভার্টের মুখের বাঁধে কোনো আড়-প্যালাসেটিং দেওয়া ছিল না। বোয়ালা গ্রামের কৃষকরা জানান, হাওড়ে প্রচুর ধান কাটার উপযোগী ছিল। শনিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে হাওড়ে গিয়ে তারা দেখেন বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
মধ্যনগর ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, হাওড়ে প্রায় ২০ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি ছিল, যা এখন ডুবে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেন, হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে এবং এমন সময় বাঁধ ভেঙেছে, তাই বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়নি। তবে স্থানীয় কৃষকরা এই দাবি অস্বীকার করে জানান, এখনো অনেক ধান কাটা বাকি ছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য
মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে কালভার্টের উপর দিয়ে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে। সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেও পানি আটকাতে পারেনি। তিনি আরও জানান, কৃষকরা আগে কিছু ধান কেটে নিয়েছিলেন, আর বাকি ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে মধ্যনগর উপজেলার জিনারিয়া ও ইকরাছই হাওড়ের বাঁধ ভেঙেও উল্লেখযোগ্য ফসলহানি হয়েছিল।



