খুলনা অঞ্চলের কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কারণে দ্রুত বোরো ধান কাটা শুরু করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় এ পর্যন্ত মোট আবাদি জমির প্রায় ১২ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে।
চার জেলায় বোরো চাষ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা
চার জেলায় মোট ২ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ২১ হাজার টন। ডিএই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমি থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লাখ ২১ হাজার ৩৯১ টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে।
খুলনা জেলা
খুলনায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ১৬ হাজার টন। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ২৬২ হেক্টর জমি থেকে ফসল কাটা হয়েছে, যা মোট আবাদের প্রায় ১২ শতাংশ।
বাগেরহাট জেলা
বাগেরহাটে ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৪ হাজার টন। এখানে ২ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি থেকে ফসল কাটা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদের প্রায় ৫ শতাংশ।
সাতক্ষীরা জেলা
সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৪২ হাজার টন। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৯২৮ হেক্টর জমি থেকে ফসল কাটা হয়েছে, যা প্রায় ১৪ শতাংশ।
নড়াইল জেলা
নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩০ হাজার টন। এখানে ৪ হাজার ২৫ হেক্টর জমি থেকে ফসল কাটা সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদের ৮.৯ শতাংশ।
অনুকূল আবহাওয়া ও ফলন
ডিএই খুলনার উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, সময়মতো বৃষ্টিসহ অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জনের সম্ভাবনা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, মানসম্মত বীজ, সঠিক সার প্রয়োগ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা বাম্পার ফলনে ভূমিকা রেখেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ধানক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও কৃষকরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসল কেটে মাড়াই করছেন।
তিপনা গ্রামের কৃষক ফরিদ খান জানান, তিনি এবার প্রতি বিঘায় ২২ মণ ধান পেয়েছেন, যা গত বছর ছিল ১৯ মণ। তিনি ১৩ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে ভালো ফলনের আশা করছেন।
গোলনা গ্রামের কৃষক মাসুম হাসান বলেন, অনেক কৃষক কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির আগে ফসল তোলার জন্য স্কুলগামী শিশুদেরও কাজে লাগাচ্ছেন।
ডিএই সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলে এ মৌসুমে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার টন।



