ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটে ৬নং নূরাবাদ ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ির একটি পুকুরে মাটি কাটতে গিয়ে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক জনতা গ্যাস নির্গমন দেখতে ভিড় করছেন।
গ্যাস নির্গমনের ঘটনা
পুকুরের মালিক মাটি কাটার সময় গ্যাস নিঃসরণ হতে দেখেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টেকনিক্যাল টিম এসে গ্যাস উদগিরণ পর্যবেক্ষণ করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছু দিন আগে পুকুরে পানি সেচ দেওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল পানির নিচ থেকে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। উৎসুক লোকজন কৌতূহলবশত মাটিতে সরু পাইপ বসিয়ে দিয়াশলাই জ্বালালে পাইপের ওপরের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে।
স্থানীয়দের ধারণা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা করছেন এটি প্রাকৃতিক গ্যাস হতে পারে। তারা চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। উপজেলা প্রশাসন ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টেকনিক্যাল টিমকে খবর দিলে তারা এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে।
বিশেষজ্ঞ টিমের মতামত
পর্যবেক্ষণ টিমের বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্যাসের চাপ কম এবং যেকোনো সময় নির্গমন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি বায়ুজনিত গ্যাস। চাপ কম থাকায় ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আশপাশের অগভীর নলকূপে কোনো গ্যাস নির্গমন হচ্ছে না। তাদের মতে, পুকুর বা জলাশয়ের নিচে জমে থাকা জৈব পদার্থ পচে মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে, যা আগুন দিলে জ্বলে ওঠে। গ্যাস ডিটেক্টরে মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও হায়ার হাইড্রোকার্বনের প্রমাণ মেলেনি। এটি অল্প গভীরতা ও নিম্নচাপে জমাকৃত স্বল্প পরিমাণ বায়োগ্যাস, যা ভোলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। নিম্নচাপের কারণে কিছুদিন পর গ্যাস নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের সতর্কতা
এদিকে ওই স্থানে অগ্নিসংযোগ না করার জন্য অনুরোধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, তিনি লোকমুখে খবর শুনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।



