ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীতে চলমান ৬০ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি। অথচ নিষেধাজ্ঞার ৫৪ দিন পার হয়ে গেলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেরা এখনো পাননি সরকারি সহায়তার চাল। এতে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জেলেদের দুর্দশা
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে তাদের আয়ের কোনো পথ নেই। এই দুর্দিনে সরকারি চালই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সময়মতো সেই সহায়তা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
অভয়াশ্রম ও সহায়তা
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া থেকে বগী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত। মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।
চাল বিতরণে অনিয়ম
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে পৌরসভাসহ উপজেলার অন্যান্য ৮টি ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন হলেও রহস্যজনক কারণে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫ জন নিবন্ধিত জেলে এখনো চাল পাননি।
জেলেদের প্রতিক্রিয়া
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মো. সোহেল আক্ষেপ করে বলেন, "মাছ ধরা বন্ধ, আয়-রোজগারও নেই। সরকারি চালটুকুও এখনো পেলাম না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।" একই ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ার মাঝি বলেন, "সব ইউনিয়নে চাল দেওয়া শেষ হয়েছে অনেক আগে, শুধু আমরাই পেলাম না। সময়মতো চাল না দিলে আমরা খাব কী?"
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্দ্রদ্বীপ ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল বশার মৃধাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার(২৪ এপ্রিল) ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৮০ জন জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। তবে বাকি ১ হাজার ৭৫ জন জেলে কবে নাগাদ চাল পাবেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"



