দিনাজপুরে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনে ট্রেন চলাচল, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
দিনাজপুরে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনে ট্রেন চলাচল

পশ্চিমাঞ্চল রেললাইনের দিনাজপুরের ফুলবাড়ী অংশে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগরসহ নিয়মিত ট্রেন। এই রেলপথে ফুলবাড়ীর মোবারকপুর রেলগেট এলাকা থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত দুর্বল লাইনে ধীর গতিতে চলাচল করতে হচ্ছে ট্রেনগুলোকে। ঝুঁকিপূর্ণ এ অংশে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

৭৭ কিলোমিটার লাইনে শত শত স্লিপার ভাঙা

পশ্চিমাঞ্চল রেলপথের এ অংশের প্রায় ৭৭ কিলোমিটার জুড়ে শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় থাকলেও সেগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় যে কোনো সময় লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

প্রতিদিন এক ডজন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল

পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার রেললাইনে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে প্রায় এক ডজন আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন মেইল ট্রেন। এ পথে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হিলি হাকিমপুর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি, বাগজানা, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ও জামালগঞ্জ অংশে রেললাইনের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে রড বের হয়ে আছে। অনেক জায়গায় রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও নেই। আবার রেললাইনের জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে। জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকায় চলাচলের সময় ট্রেনের চাপে রেললাইন ওঠানামা করে বিপজ্জনকভাবে। মাঝেমধ্যে লাইনের এ অংশে কোনো রকম মেরামত করা হলেও তাতে ঝুঁকি কমছে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত ঈদে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত

ঝুঁকিপূর্ণ এই লাইনের কারণে গত ঈদুল ফিতরের মাত্র দুদিন আগে ১৮ মার্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। আদমদীঘির বাগবাড়ী এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী। এর পর থেকেই এই অংশে ধীর গতিতে যাতায়াত করছে ট্রেনগুলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

রেললাইন ফুলবাড়ী উপজেলার বারোকোনো ও চকসাহাবাজপুর গ্রামের সমাজকর্মী সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী মিরু ও আব্দুল মোতালিব পাপ্পুসহ কয়েক জনের অভিযোগ, ফুলবাড়ী রেল স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ রেললাইনের বিভিন্ন অংশ জুড়ে কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেলেও মেরামত করা হয়নি। লাইনের নিচে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ট্রেন পার হওয়ার সময় বিভিন্ন স্থান দেবে যায়। এছাড়া লাইনের পাথরগুলোও আর আগের মতো পরিষ্কার করে না রেল কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে ২৩ মার্চ সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটারের মাঝামাঝি এলাকার রেললাইনের কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যায়। এ অবস্থা দেখে এলাকার কৃষক এনামুল হক (৬৫) তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে দেন। এতে রক্ষা পায় ট্রেনের যাত্রীরা।

জনবল সংকটে মেরামত ব্যাহত

রেল বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার রেললাইন দেখভাল করার জন্য যে সংখ্যক জনবল প্রয়োজন, তার অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কেউ নেই। ১০ জন কি-ম্যানের পদ দীর্ঘদিন খালি। অথচ এই কি-ম্যানদের দায়িত্ব হলো প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন চেক করে রিপোর্ট করা। আবার চার জন ট্রলিম্যানের বিপরীতে আছেন মাত্র এক জন। তিন জন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে আছেন এক জন। বেলোম্যানের দুটি পদই খালি। হ্যামারম্যান থাকার কথা তিন জন; আছেন এক জন। ফলে ইচ্ছা থাকলেও জনবলসংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে লাইন মেরামত করা যায় না।

স্থায়ী সংস্কারে দরপত্র আহ্বান

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করে যাত্রীদের ট্রেনযাত্রা নিরাপদ করতে কাজ করছেন তারা। ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ সার্বক্ষণিক পরিদর্শনসহ স্থায়ী সংস্কারে ইতিমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হলে ট্রেন চলাচল নিয়ে সব ধরনের শঙ্কা কেটে যাবে।