কলাগাছের বাকল থেকে সুতা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী যুবক রিয়াছাদ রেজভী
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গণেশপুর এলাকায় রিয়াছাদ রেজভী নামের এক যুবক কলাগাছের বাকল থেকে সুতা উৎপাদন করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাধারণত কৃষকরা কলা সংগ্রহ করার পর গাছগুলোকে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেন, কিন্তু রেজভী এই বর্জ্যকে মূল্যবান সুতায় রূপান্তরিত করছেন।
কৃষি বর্জ্য থেকে মূল্যবান সুতা
আমাদের দেশের কৃষকরা প্রধানত কলাচাষ করে কলা বিপণনের মাধ্যমে আয় করেন। কলাগাছ পরিপক্ব হলে শুধু কলা সংগ্রহ করা হয়, গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। অধিকাংশ কৃষকই জানেন না যে কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা তৈরি করা যায় এবং এর বাজারমূল্য রয়েছে। একটি কলাগাছ থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম সুতা পাওয়া সম্ভব, যা গ্রামীণ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
রিয়াছাদ রেজভীর যাত্রা
উপজেলার উচিতপুর (খুনারপাড়া) গ্রামের শাহীন আলমের ছেলে রিয়াছাদ রেজভী প্রথমে ঢাকার গাজীপুর কোনাবাড়িতে একটি কোম্পানিতে আড়াই বছর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদনের কৌশল আয়ত্ত করেন। পরে তিনি ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরোনো মেশিন কিনে নিজের উদ্যোগ শুরু করেন।
রেজভী বলেন, "এ কাজে তেমন পুঁজি লাগে না, কারণ কৃষকরা পরিত্যক্ত কলাগাছ নিতে দেন। আমরা গাছগুলো সংগ্রহ করে সুতা তৈরি করি, যা লাভজনক ব্যবসা।" তার কর্মক্ষেত্রে বাবা শাহিনসহ ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
কর্মীদের অভিজ্ঞতা
পৌরসভার গণেশপুর মহল্লার আব্বাস আলী এই সুতা উৎপাদনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "মাঠে-ঘাটে অন্যান্য কাজের তুলনায় কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির কাজ সহজ ও আরামদায়ক। এটি পরিবেশবান্ধব এবং স্থায়ী আয়ের উৎস।"
লাভজনক ও বহুমুখী সম্ভাবনা
উদ্যোক্তা রেজভী জানান, কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক। তিনি আরও যোগ করেন, সুতা সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করা যায়, যা কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। সরকারি সহায়তায় স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া গেলে এই উদ্যোগের প্রসার ঘটানো সম্ভব, ফলে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কৃষি কর্মকর্তার মতামত
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "কলাগাছের কাণ্ডে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তন্তু পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল। এটি কৃষি বর্জ্যকে মূল্যবান সুতায় রূপান্তরের অসাধারণ সম্ভাবনা রাখে।" তিনি উল্লেখ করেন, কলাতন্তুর সুতা দিয়ে রশি, ব্যাগ, ম্যাট ও পোশাক তৈরি করা যায়, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশন খাতকে নতুন দিশা দিতে পারে।
এই উদ্যোগটি শুধু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।



