ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ পাইলট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানের বর্ণনা ও প্রধান অতিথির উপস্থিতি
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, বগুড়ায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছান। সেখানে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি এবং তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা ও বক্তব্যের মজাদার মুহূর্ত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে উপস্থিত এলাকাবাসীর সঙ্গে হালকা রসিকতা করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি থেমে যান, তখন গ্রামবাসী তাকে আরও দুই ঘণ্টা বক্তব্য দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘আরে খিদা পাইছে আমার। বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না? নামাজ বাকি, খাওয়া বাকি, খাল কাটা বাকি, জনসভা বাকি। আবার ঢাকায় যেতে হবে। আসব আবার, কথা বলব।’ এই মজাদার মন্তব্যে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ফ্যামিলি কার্ডের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সময়সীমা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘দুই যুগ পর এই কলেজ মাঠে আজ আসতে পেরেছি। ১০ বছর ধরে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। আজ নিজের গ্রামে এসে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে পেরেছি। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে ২৩ উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। ৫ বছরে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারের বেশির ভাগ মায়েদের হাতে এ কার্ড দেওয়া হবে।’ এই পরিকল্পনা দেশজুড়ে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা ঘোষণার দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর জবাব
অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বাগবাড়ীকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে তেল-গ্যাস আমরা আনতাম, সে দেশগুলো আক্রান্ত হয়েছে। শুধু তা–ই নয়; যে জাহাজে করে আমরা তেল আনতাম, সেই রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তেল আনতেও কষ্ট হচ্ছে। যে দেশ থেকে তেল আনতাম, সেখানেও বাড়তি দাম। বাড়তি দাম দিয়ে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন আনতে হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ চলে গেছে। এই অর্থ জনগণের। সেই কারণে বিবেচনা করে উন্নয়ন করতে হবে। এই এলাকা শহীদ জিয়ার জন্মস্থান। আপনাদের যেমন শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ওপর হক আছে, সারা দেশের মানুষেরও হক আছে। শুধু গাবতলী বা বাগবাড়ীতে উন্নয়ন করলে হবে? সারা দেশই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি তো আছিই আপনাদের কাছে, এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু সারা দেশের প্রতি নজর দিতে হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় উন্নয়নের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দেন।
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ভাতা বিতরণ
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার, একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ফ্যামিলি কার্ডের সুফলভোগী নারী ভারতী রানী ও বাবলী আকতার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে যায়, যা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার নারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রগতি সাধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



