নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় মাছ ধরার জালে আটকা পড়া একটি অজগর উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরে বন বিভাগের কর্মীরা সেটিকে উদ্ধার করে সীমান্ত এলাকার একটি পাহাড়ে ছেড়ে দেন।
ঘটনার বিবরণ
উপজেলার সদর ইউনিয়নের আগাড়পাড়া গ্রামের সামনে থেকে আজ সোমবার সকালে সাপটি উদ্ধার করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট ও ওজন ১৫ কেজি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল সাতটার দিকে আগাড়পাড়া ত্রিনালী বাজারসংলগ্ন এলাকায় শামসুল নামের এক ব্যক্তির মাছ ধরার জালে অজগর সাপটি আটকা পড়ে। তিনি ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে কৌশলে অজগরটি আটক করেন। এরপর তাঁর বাড়ির সামনে এনে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সাপটিকে একনজর দেখতে উৎসুক লোকজন ভিড় জমান।
উদ্ধার ও অবমুক্তকরণ
খবর পেয়ে বন্য প্রাণী সংরক্ষণকর্মী আমিন খান ঘটনাস্থলে এসে সাপটিকে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। দুপুরে দুর্গাপুর রেঞ্জের সদর বিটের ফরেস্ট গার্ড মনোয়ার হোসেনসহ বন বিভাগের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অজগরটিকে নিরাপদে বস্তাবন্দী করে উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাপটিকে দুর্গাপুরের নলুয়াপাড়া বনে অবমুক্ত করা হয়।
সংরক্ষণকর্মীর বক্তব্য
উদ্ধারকর্মী আমিন খান বলেন, 'সাপটিকে উদ্ধার করে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সাপটি সুস্থ থাকায় বিকেলে সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে চলে আসে। আমরা স্থানীয়দের সচেতন করছি, সাপ ধরা পড়লে বা লোকালয়ে চলে এলে সেটিকে হত্যা করা উচিত নয়। বন বিভাগকে অবহিত করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করতে হবে।'
বন বিভাগের সতর্কবার্তা
ফরেস্ট গার্ড মনোয়ার হোসেন বলেন, 'দুর্গাপুরের নলুয়াপাড়া বনে সাপটি অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্য প্রাণী হত্যা দেশের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো বন্য প্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে হবে।'



