পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
পদত্যাগের কারণ কী?
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন, চাপ প্রয়োগের কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
দীপেন দেওয়ানের রাজনৈতিক পটভূমি
দীপেন দেওয়ান যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের বিষয়টি আগে থেকে তাঁরা আঁচ করতে পারেননি। তাঁদের ধারণা, মন্ত্রণালয় পরিচালনা, রাঙামাটির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগপ্রক্রিয়ার জেরে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পাহাড়ের তিন জেলাকেন্দ্রিক। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান আসনের তিনটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। বান্দরবান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাচিংপ্রু জেরী এবং খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য হচ্ছেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ছয় নেতা জানিয়েছেন, অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনগুলোর সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তিন সংসদ সদস্য একই দলের হওয়ায় তাঁদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
পদত্যাগের প্রভাব
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ‘দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ বিএনপির রাজনীতি, পাহাড়ের রাজনীতি এবং পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের “রংধনু জাতি” গঠনের জন্য ক্ষতিকর।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়ার জন্য।
কাউখালী উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাজামং মারমা বলেন, ‘তিনি পদত্যাগপত্রে যে কারণ দেখিয়েছেন, তা সঠিক নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি মন্ত্রিত্ব চালানোর মতো সক্ষম। গত ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে যারা লালন-পালন করছিল, তাদের চাপের মুখে তিনি সাময়িকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই। এর আগের বছর সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তানুসারে এই মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। পাহাড়ে সংঘাত পেরিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল সেই চুক্তির লক্ষ্য।
চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারায় লেখা আছে, ‘উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’ বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এবং অন্যজন বাঙালি।



