কান চলচ্চিত্র উৎসবে অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের উপস্থিতি ও পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ক্রমাগত কটাক্ষ ও বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হলেন বলিউডের 'ডান্সিং কুইন' মাধুরী দীক্ষিত। ঐশ্বরিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে মাধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতীয় সিনেমা এবং বিশ্বমঞ্চে ঐশ্বরিয়ার অবদানকে কেবল তার বাহ্যিক চেহারা, বয়স বা শারীরিক গঠনের মাপকাঠিতে বিচার করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মাধুরীর বক্তব্য
সম্প্রতি নিজের নতুন নেটফ্লিক্স ছবি 'মা বহেন'-এর প্রচারের ফাঁকে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে মুখ খোলেন মাধুরী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন মানুষের পরিচয় তার শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে অনেক বেশি গভীর। ঐশ্বরিয়ার বিশ্বব্যাপী সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে মাধুরী বলেন, 'ও বিগত ২০ বছর ধরে কানের রেড কার্পেটে যাচ্ছে। ও পুরো দেশকে গর্বিত করেছে এবং ও একজন গ্লোবাল স্টার। মিস ওয়ার্ল্ড হিসেবে দেশের জন্য ওর অবদান অপরিসীম। আপনি ওকে ওজনের মেশিনের কোনো সংখ্যা, পোশাকের সাইজ কিংবা ক্যালেন্ডারের বয়সের সংখ্যা দিয়ে বিচার করতে পারেন না। ওর কৃতিত্বকে এতটা ছোট করা যায় না। ও দেখতেও যেমন সুন্দর, ভেতর থেকেও ঠিক ততটাই সুন্দর।'
সমাজে নেতিবাচক প্রভাব
এই ধরনের ট্রলিং বা বডি-শেমিংয়ের ফলে সমাজের এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাধুরী। তিনি বলেন, 'মানুষের বোঝা উচিত, এ ধরনের মন্তব্য করে আমরা আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে কী বার্তা পাঠাচ্ছি? আমরা কি এই শেখাচ্ছি যে একজন মানুষের যোগ্যতা কেবল তার বাহ্যিক রূপের ওপর নির্ভর করে, তার অর্জনের ওপর নয়? এটা সম্পূর্ণ ভুল একটি বার্তা।'
মাধুরী আরও যোগ করেন যে, সমালোচনা বা কটু কথা বলার মতো মানুষ আগেও ছিল। কিন্তু অতীতে সাধারণ মানুষের কাছে তারকাদের সরাসরি আক্রমণ করার মতো কোনো মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্ম ছিল না। আজ সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে সেই সুযোগ চলে আসায় মানুষ এর অপব্যবহার করছে।
ঐশ্বরিয়ার কান যাত্রা
২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালীর 'দেবদাস' চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রথমবার কানের মর্যাদাপূর্ণ রেড কার্পেটে পা রাখেন ঐশ্বরিয়া রাই। এরপর থেকে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অন্যতম প্রধান মুখ। প্রতি বছরই বিশ্ব গণমাধ্যম এবং ভক্তদের নজর থাকে এই বিশ্বসুন্দরীর দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করার পরও গত কয়েক বছরে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সজনিত কটাক্ষ ও বডি-শেমিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তবে ঐশ্বরিয়া সাধারণত এই ধরনের ট্রলিং নিয়ে জনসমক্ষে কখনোই তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না।



