কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল স্বাভাবিক
কুষ্টিয়া জেলায় পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে বিকেল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
কর্মবিরতির পটভূমি
পরিবহন শ্রমিকরা দুটি দাবি আদায়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। তাদের দাবিগুলো ছিল:
- পরিবহন খাতে মালিকদের মতো শ্রমিকদেরও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
- শ্রমিক সংগঠনের নামে একটি বাস কুষ্টিয়া-খুলনা রুটে চলাচলের অনুমোদন দিতে হবে।
এক সপ্তাহ আগে মালিক গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দাবি না মানায় গত শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
যেসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল
কর্মবিরতির সময় কুষ্টিয়া-মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া-প্রাগপুর রুটে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-বরিশাল, কুষ্টিয়া-রাজশাহী, কুষ্টিয়া-পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য রুটে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছিল।
বৈঠক ও সমাধান
এ পরিস্থিতিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাসমালিক ও শ্রমিক নেতারা জেলা পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া যায়। ফলে শ্রমিক নেতারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক থাকায় তাঁরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।’
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়গুলো মালিকপক্ষ বিবেচনায় নিয়েছে। শ্রমিকেরা সন্তুষ্ট হওয়ায় পরবর্তী কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।’
পরবর্তী অবস্থা
কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর থেকে জেলার সব অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। যাত্রীরা এখন বিনা বাধায় যাতায়াত করতে পারছেন। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দিলেও দ্রুত সমাধান হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরিবহন খাতে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



