রাজধানী ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত দুইটি মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পৃথকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রাপুর থানা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ অভিযান পরিচালনা করে।
সূত্রাপুর থানার অভিযান
ডিএমপির সূত্রাপুর থানা পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—রাজু আহমেদ শিপলু (৩৭), ইরফান অমি (৩৮) ও মো. আলমগীর (৫০)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া এক জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, একটি টেলিভিশন, একটি স্মার্টফোন এবং নগদ দুই লাখ দশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সূত্রাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, সূত্রাপুর থানাধীন উল্টিনগঞ্জ লেনের একটি বাসার ভাড়াটিয়া ৩১ মে বাসায় তালা দিয়ে ঢাকার বাইরে যান। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বাবা বাসায় গিয়ে দেখেন দরজার তালা ভাঙা এবং বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো। পরে ভাড়াটিয়া এসে ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থায় জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় স্বর্ণালঙ্কার, টেলিভিশন ও নগদ অর্থসহ প্রায় ১৬ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত হন। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে সোমবার (৮ জুন) সূত্রাপুর ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
সিআইডির অভিযান
অপরদিকে, একই দিনে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২)।
সিআইডি জানায়, টাঙ্গাইলের কাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সোলায়মানকে তার মালিকানাধীন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর থানার কলেজপাড়া এলাকার একটি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করে সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে এসব বেটিং পরিচালিত হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
তদন্তে জানা যায়, অংশগ্রহণকারীরা বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতেন এবং ভার্চ্যুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করা হতো। পরবর্তীতে ওই অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।
সিআইডি আরও জানায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। এসব হিসাব অনলাইন বেটিংয়ের অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



