রাজশাহীতে জ্বালানি সংকট: বাইকারদের দীর্ঘ লাইনে ফিলিং স্টেশনগুলোর হিমশিম অবস্থা
রাজশাহীতে জ্বালানি সংকটে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন

রাজশাহীতে জ্বালানি সংকট: বাইকারদের দীর্ঘ লাইনে ফিলিং স্টেশনগুলোর হিমশিম অবস্থা

রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর থেকেই এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বাইকারদের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা, যেখানে সর্বত্র চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাইকাররা।

জ্বালানি সরবরাহে সংকটের কারণ

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছে না। অন্যদিকে, গণমাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদার বিষয়টি বুধবার বিকেল থেকেই দৃশ্যমান হয়। তবে ওইদিন বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন থেকে বাইকাররা চাহিদামতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোর বর্তমান অবস্থা

রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, যেখানে সর্বনিম্ন ২০০ টাকার এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কর্মচারীদের সঙ্গে বাইকারদের তর্কে জড়াতে দেখা গেছে।

বাইকারদের প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা

দুর্গাপুরের সাংবাদিক গোলাম রসুল জানান, তিনি তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এক হাজার টাকার পেট্রোল কিনেছেন। একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার এবং দুটি স্টেশন থেকে ২৫০ টাকা করে মোট ৫০০ টাকার জ্বালানি নিয়েছেন তিনি। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর সামনে নয়ান ফিলিং স্টেশনে বাইকার সবুজ জানান, তিনি প্রতিদিন বাইক ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন পাম্প ঘুরে বাইকের ট্যাংক ভরার চেষ্টা করছেন।

আব্দুল জলিল আরও উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য সংকটের খবরে বাসায় মজুদ রাখার জন্য বাইকারদের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে তারা বাইকারদের চাহিদামতো জ্বালানি দিতে পারছেন না। বাইকাররা আতঙ্কিত হয়ে জ্বালানি কেনা বাড়িয়ে দিয়েছেন, যেখানে যারা নিয়মিত বাইক ব্যবহার করেন না, তারাও একসঙ্গে ফুল ট্যাংক জ্বালানি নিতে চাইছেন। আর যারা নিয়মিত বাইক চালান, তারা বিভিন্ন পাম্প ঘুরে ট্যাংক পূর্ণ করে বাড়িতে জ্বালানি সংরক্ষণ করছেন।

সংকটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এ সংকটের ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কর্মীদের উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বাইকারদের দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন জ্বালানি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে, এবং বাকিগুলোতে অল্প অল্প করে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে রাজশাহী অঞ্চলে যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।