ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: চালকরা ২০০ টাকার বেশি পেট্রল-অকটেন কিনতে পারছেন না
ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট, চালকরা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না

ফরিদপুরে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট: চালকরা হতাশ

ফরিদপুরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যানবাহন চালকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ করতে পারছেন না, যা তাদের দৈনন্দিন যাত্রায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। একইসাথে, পাম্প মালিকরা গ্রাহকদের চাহিদামতো বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের অভাব

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেল চালকরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। তবে তাদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। পাম্প মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করছে, যা ফরিদপুরের মতো স্থানীয় পর্যায়েও প্রতিফলিত হচ্ছে।

চালকদের কষ্টের গল্প

রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রাইভেটকার নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক মো. সোহাগ মিয়া। তিনি বলেন, "পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি, আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার, কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে মাত্র ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কিভাবে যাব সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।"

মোটরসাইকেল চালক কাইয়ুম হোসেন বলেন, "বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি তেল দিচ্ছে না। চাহিদামতো তেল পাইনি। কি আর করা, এই তেলেই কষ্ট করে চলতে হবে।"

অপর মোটরসাইকেল চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, "আমি বাইকের জন্য পেট্রল নিতে এসেছি; কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। এ তেল দিয়ে একদিনই চলতে পারব না।"

ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মী আরিফ বলেন, "আমাদের সবসময় মার্কেটে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়; কিন্তু সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না।"

পাম্প মালিকদের দুশ্চিন্তা

ফরিদপুর সদরের যমুনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, "আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি, কিন্তু সামনের সপ্তাহে কী পরিমাণ জ্বালানি পাব সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।"

এই পরিস্থিতি ফরিদপুরের স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চালকরা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে পাম্প মালিকরা বিক্রি কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সবাই।