এলপিজি আমদানি বাড়লেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে তারা বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন, যা এ মাসের শেষে বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খুচরা বাজারে দাম বেশি
খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি বাড়লেও ভোক্তাদের এখনো সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপি গ্যাস কিনতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে এলাকাভেদে ক্রেতাদের ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে তীব্র সংকটের সময় এই সিলিন্ডারের দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ছিল।
আমদানি পরিসংখ্যান
চট্টগ্রাম কাস্টমস ও মোংলা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত দুই বন্দর দিয়ে ৯১ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়েছে। গত মাসে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬৩ হাজার টন, যা বর্তমান আমদানির তুলনায় ৪৪ শতাংশ কম। এছাড়া সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলোতে প্রতি মাসে ২০-২২ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের মন্তব্য
এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, "এলপি গ্যাস যতটুকু আমদানি হচ্ছে, তাতে ভোক্তা পর্যায়ে সংকট নেই। আমদানিকারকেরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলেও খুচরা পর্যায়ে দাম বেশি রাখা হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি শুরু হয়েছে, যা খুব দ্রুত সরবরাহ বাড়াবে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, নিয়মিত উৎসের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপি গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের পথে থাকা এই গ্যাস দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা
লোয়াবের নেতারা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে ভোক্তার ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না। জানা গেছে, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ১০ হাজার টন এলপিজি নিয়ে তিনটি ট্যাংকার আসছে। মেঘনা গ্রুপের পাঁচ জাহাজে ৫৭ হাজার টন এলপি গ্যাস চট্টগ্রামের পথে রয়েছে, যার মধ্যে ২৪ হাজার টন ফেব্রুয়ারির শেষে বন্দরে পৌঁছাবে।
গত অর্থবছরে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি হয়েছিল, এবং প্রতিদিনের চাহিদা প্রায় পাঁচ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে, যার মধ্যে ২৩টির আমদানি অনুমোদন আছে। চলতি অর্থবছরে ১৬টি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে আমদানি করছে, এবং এর মধ্যে ৯টি কোম্পানি ৯২ শতাংশ এলপি গ্যাস আমদানি করেছে।
