২৮ এপ্রিলের মধ্যে লোডশেডিং কমবে, জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ
২৮ এপ্রিলের মধ্যে লোডশেডিং কমবে: বিদ্যুৎ বিভাগ

আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট, এসএস পাওয়ার এবং আরএনপিএলের একটি ইউনিট উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৯০০ মেগাওয়াট বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে করে লোডশেডিং কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা।

বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু সে তুলনায় উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। গতকাল সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

চাহিদা ও সরবরাহ

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১৭ হাজার মেগাওয়াট, যেখানে সরবরাহ করা যাচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে সরকার কৃষি সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশকিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিগগিরই শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের লোড ঠিক করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধান সেচের জন্য গুরুত্ব

উম্মে রেহানা বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ দেশের খাদ্যশস্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়ে ধান পাকবে। তাই এ সময় সেচে গুরুত্ব সহকারে বিদ্যুৎ দিতে হবে।

লোডশেডিং বাড়ার কারণ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের এ সময়ে কোনো লোডশেডিং না থাকলেও এবার গরম কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, যন্ত্রের তো কোনো বিশ্বাস নেই। এবার অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিন ট্রিপ করেছে, বিশেষ করে আদানিসহ বিভিন্ন ইউনিটের ট্রিপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

আমলাদের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে

পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় আমলাদের ব্যর্থতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম সচিব বলেন, বিদ্যুৎ সচিব ৭ এপ্রিল রাতে জুমে বৈঠক করে এবারের বিদ্যুৎ সরবরাহের সব ঠিক করেছেন। আমলাদের কোনো ব্যর্থতা নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সংকট

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ঠিকমতো এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একইভাবে ফার্নেস অয়েল ও কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজন ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯২ কোটি ঘনফুট। এ কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের কম। এমনকি দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া সম্ভব হলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত, কিন্তু সেটাও দেওয়া হচ্ছে না। তাই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিং বাড়ছে।