দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে সচল থাকা ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বন্ধ হয়ে যায়।
কেন বন্ধ হলো উৎপাদন?
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২৫ মেগাওয়াটের ইউনিটটির দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন পড়ে। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে গেছে। বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।
মেরামত ও পুনরায় উৎপাদন শুরু
প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, মেরামতকাজ চলছে। এটি মেরামত করে আবার উৎপাদন শুরু করতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি। দ্বিতীয় ইউনিটটির মেরামতের বিষয়ে কথা হয়েছে দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে খনির কোল ইয়ার্ডে ৬ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন কয়লার মজুত রয়েছে।
ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশে ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ দিন পর উৎপাদনে আসে ১৪ জানুয়ারি। বেশ কয়েক মাস পর বুধবার রাতে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।
এখন দেখা যাক, কবে নাগাদ মেরামত শেষ করে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।



