গরমে লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ
লোডশেডিংয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ

চলমান তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে— এজন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

গ্রামের কৃষকদের জন্য লোডশেডিং সিদ্ধান্ত

একই সঙ্গে বৈষম্যহীন নীতির অংশ হিসেবে গ্রামের কৃষকদের সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সবাইকে নিতে হচ্ছে। বর্তমানে কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার গড়মিল রয়েছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জানান, গতকাল (বুধবার) দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাম-শহরের বৈষম্য দূরীকরণ

গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করার কথা উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে— এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। ফসল ওঠার মৌসুমে কৃষকরা যেন সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান, তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমরা ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

গ্যাস সংকটের চিত্র

গ্যাস সংকটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশের সব কূপ মিলে উৎপাদন হয় ২ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেই অর্থ থাকলেও হঠাৎ আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যেই গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং কমে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একটি আমদানিকৃত এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে পারছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। ফলে বর্তমানে যে ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে আসবে।”

দুঃখ প্রকাশ ও সমাধানের প্রচেষ্টা

তিনি বলেন, “আমি দেশবাসীর কাছে আজ এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের পক্ষ থেকে বিনয়ের সঙ্গে ও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। জনগণের কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে।”

এর আগে সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনার যে নজির স্থাপিত হয়েছে, তা জাতির জন্য নতুন পথের দিশা হয়ে থাকবে।”