মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ কাজে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উপজেলার ৩৮৫টি সেচ পাম্প চালানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। সঠিক সময়ে জমিতে পানি দিতে না পারায় বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক।
অন্যদিকে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। ভালো ফলন পেতে এই অবস্থায় সেচ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার ৪৪৯টি সেচ পাম্পের মধ্যে ৩৮৫টিই ডিজেল চালিত।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তাঁরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। বনসেমন্ত গ্রামের কৃষক হিরন হাওলাদার বলেন, ৬০ শতক জমিতে আবাদ করেছি। বালিগাঁও থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৫ লিটার তেল ৬০০ টাকা দিয়ে আনতে হয়েছে। একই কথা জানান হাড়িদিয়া গ্রামের নুরু মিস্ত্রি ও পালগাঁও গ্রামের রতন শিকদারেরও।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কলিকাতা ভোগদিয়া এলাকার ‘মেসার্স সাকুরা ফিলিং স্টেশন-২’-এ গিয়ে দেখা যায়, ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন। কৃষকদের অভিযোগ, পাম্পে তেল মজুত থাকলেও স্টাফরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন এবং রাতে ড্রামে করে কালোবাজারে তেল বিক্রি করছেন। এ সময় পাম্পের কর্মকর্তাদের কৃষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করতেও দেখা যায়।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসান উদ দৌলা দ্রুত ওই ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হন। তিনি পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত দেখতে পেয়ে কৃষকদের মাঝে তেল বিতরণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘তেল না দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। যা তেল আছে তা রেশনিং পদ্ধতিতে দেওয়া সম্ভব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষকদের আগে তেল দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে ডিজেল ক্রয়ের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে।’



