জ্বালানি সংকটে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকটে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির সভাপতি হিসেবে জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের নাম প্রস্তাব করে বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচ জনের নাম চান তিনি। প্রস্তাবিত এ কমিটি জ্বালানি সংকট ছাড়াও দেশের যেকোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরকারি দলের পাঁচ জন এবং বিরোধী দলের পাঁচ জন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রস্তাব করেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। এ জাতীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সংসদে একমত হয়েছে যে তারা দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন জ্বালানি সংকট সমাধানে যৌথ কমিটির প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিরোধী দলীয় নেতার দেওয়া 'দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ' শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা করতে জাতীয়তাবাদী দল সম্মত রয়েছে বলে জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের অবস্থান

সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষ থেকে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, গত ২২ এপ্রিল বিরোধী দলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আলোচনায় এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত হয়, যার প্রভাব সারা বিশ্বেই অনুভূত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সবসময়ই দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে যেকোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।

কমিটির গঠন ও কার্যক্রম

এই প্রেক্ষাপটে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি সংসদকে জানান। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারাও যেন পাঁচজন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়, যাতে উভয় পক্ষের মোট ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও পরামর্শ নিয়ে আলোচনা হবে এবং যেসব পরামর্শ বাস্তবসম্মত হবে, সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে পাঁচজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন মিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), ময়নুল ইসলাম শান্ত খান (মুন্সিগঞ্জ-২) এবং মিয়া নুরুদ্দিন (শরীয়তপুর-৩)।

প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন দ্রুত তাদের পাঁচজন প্রতিনিধির নাম পাঠান, যাতে কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে পারে এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ''প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য। আমরা মনে করি এ সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে। সংসদের জন্য এটি একটি নবযাত্রা। এটাকে সাধুবাদ জানাই এবং আমরা শিগগিরই নামগুলো পেশ করবো।''