গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এতে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে পরিস্থিতি চরম চাপে রয়েছে। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪৩ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এবং এই খাতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াটের বেশি। তবে গ্যাসের অভাবে বর্তমানে এর অর্ধেকের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের চিত্র
যুগ্মসচিব জানান, দেশের সব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গতকালের হিসাবে গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়াও শিল্প-কারখানা এবং সার উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে হচ্ছে, যার কারণে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো যাচ্ছে না।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর জোর
জ্বালানি সংকট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার সাশ্রয়ের নীতি নিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণদমে চালু থাকলে লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র শিগগিরই চালু
এদিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৬ এপ্রিলের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে এবং বন্ধ থাকা ইউনিট থেকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
সাশ্রয়ের আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে উম্মে রেহানা বলেন, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।



