জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধানের জন্য আমূল কাঠামোগত সংস্কার জরুরি
জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধানে আমূল সংস্কার জরুরি

জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধানের জন্য আমূল কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য নীতিগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার আমূল কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামত

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানিনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেখানে সংকটের সময়েও একটি নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই কাঠামোগত দুর্নীতির কারণে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এম শামসুল আলম আরও সতর্ক করে বলেন, এই চক্র ভাঙতে না পারলে যেকোনো সরকারই শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার অংশ হয়ে পড়বে। তার মতে, জ্বালানি খাতের সংস্কার না হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল তাৎক্ষণিক খরচ বিবেচনা করা হয়। পরিবেশগত ক্ষতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ের কৌশলগত লাভ এখানে উপেক্ষিত থাকে। তার মতে, এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

মোশাহিদা সুলতানা আরও যোগ করেন, পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতি গ্রহণ না করলে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিন স্তরের পরিকল্পনা প্রস্তাব

সভায় জ্বালানি সংকট সমাধানে তিন স্তরের পরিকল্পনার কথা জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো হলো:

  1. স্বল্প মেয়াদে: জ্বালানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা ও অপচয় রোধ করতে হবে।
  2. মধ্য মেয়াদে: সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।
  3. দীর্ঘ মেয়াদে: বর্তমান উন্নয়ন মডেল পুনর্বিবেচনা করে একটি পরিবেশবান্ধব ও বৈষম্যহীন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

হাসান আশরাফ বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি খাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভার অন্যান্য বক্তারা

গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। তারা সকলেই জ্বালানি খাতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা জনবান্ধব জ্বালানিনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।