জ্বালানি সংকট নেই, প্যানিক বায়িং ও অবৈধ মজুতই দায়ী: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুতের কোনো বড় সংকট নেই। মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুতের প্রবণতাই বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
জ্বালানি সরবরাহের তুলনামূলক চিত্র
জ্বালানি উপদেষ্টা পেট্রলপাম্পভিত্তিক সরবরাহের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, রাজধানীর পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব (আসাদ গেইট) পাম্পে গত বছর এপ্রিল মাসে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু চলতি বছর এপ্রিলের মাত্র ১৯ দিনেই ২ লাখ ৭০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হয়েছে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও গত বছরের পুরো মাসের সরবরাহ (২ লাখ ২১ হাজার ৫০০ লিটার) এ বছর এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই সম্পন্ন হয়েছে।
একইভাবে সততা ফিলিং স্টেশনে (তেজগাঁও) ১৯ দিনে ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার ডিজেল এবং পূর্বাচল ট্রেডার্সে (পরিবাগ) ১৯ দিনে গত বছরের পুরো মাসের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৬৭ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল সরবরাহ করা হয়েছে।
জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান
জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন; অকটেন ২৭ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন; পেট্রল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ৩৮২ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সাপ্লাইয়ের বড় কোনো সংকট নেই। নতুন জ্বালানি নিয়ে জাহাজ আসছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের কারণে চাহিদা এখন স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।’
বর্ধিত হারে জ্বালানি বিক্রয়ের নির্দেশনা
বর্ধিত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোকে ২০ এপ্রিল থেকে বর্ধিত হারে জ্বালানি বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ডিজেল ১০ শতাংশ, পেট্রল ১০ শতাংশ ও অকটেন ২০ শতাংশ বেশি হারে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান ও অর্থদণ্ড
অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধ মজুত–সংক্রান্ত ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৪৭টি মামলার বিপরীতে মোট ১ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, অভিযানে মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার ৮২১ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮০৫ লিটার ডিজেল; ৪০ হাজার ৪০১ লিটার অকটেন; ৯২ হাজার ১১৫ লিটার পেট্রল এবং চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়।
‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বৃদ্ধি
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, জ্বালানি বিতরণ শৃঙ্খলায় আনতে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও এখন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহসহ প্রধান বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর মোটরসাইকেলচালকেরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন।
ব্রিফিংয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে মোট রেজিস্ট্রেশন ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে আপাতত ঢাকা জেলার ১৮টি নির্ধারিত পাম্প থেকে নিবন্ধিত চালকেরা ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল নিতে পারবেন।
গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও সরকারের উদ্যোগ
গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ভোক্তা ও পরিবহনমালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। ভাড়া বাড়লে দ্রব্যমূল্যে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী উপস্থিত ছিলেন।



